ঝিনাইদহের ১৫ নদীর বুকচিরে ফসলের চাষ !

foshol
নয়ন খন্দকার, (ঝিনাইদহ) কালীগঞ্জ॥ মাঠের পর মাঠ সবুজ ফসলে ছ্েেয় আছে। কিন্তু এ ফসল সাধারণ কোনো জমিতে নয়, এগুলো এক সময়ের খরস্রোতা নদ-নদী। এখন শুধুই ফসলের ক্ষেত। পানি না থাকায় নদীতে কৃষকরা চাষাবাদ করে ফসল ফলিয়েছেন। সবুজ ফসলের মাঠ দেখে কেউ ভুলেও ভাববে না এক সময় এগুলো খরস্রোতা নদী ছিল।
ঝিনাইদহের বুকজুড়ে প্রবাহিত ১৫টি নদ-নদী বিলীন হয়ে ফসলের ক্ষেতে পরিণত হয়েছে। সেখানে এখন চাষাবাদ হয় ধান-পাট, পিঁয়াজসহ অন্য ফসল। জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত কালী, কুমার, ডাকুয়া, নবগঙ্গা, চিত্রা, বেগবতী, কপোতাক্ষ, ফটকি, ভৈরবসহ ১৫টি নদী সংস্কারের অভাবে ও ভারতের বৈরী পানি নীতির কারণে এখন মৃতপ্রায়। সেখানেও পানির অভাবে অগভীর নলকূপ বসিয়ে ধান ক্ষেতে সেচ চলছে। পানি না থাকায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য। হারিয়ে গেছে মৎস্য সম্পদ। নদী তীরবর্তী গ্রামের জেলেরা পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছে। যেসব নদীতে এককালে লঞ্চ-স্টিমার চলত সে সব নদীতে এখন নৌকারও দেখা মেলে না। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে পলি জমে উৎসমুখ ভরাট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন নদীগুলো পুন:খনন না করা, নদীর উৎস মুখে ক্রসড্যাম (আড়িবাঁধ) দেয়াসহ নানা কারণে ঝিনাইদহের সব নদীই এখন মৃত। মহেশপুরের চিত্রা নদীর পাড়ের তালিনা গ্রামের আব্দুল মালেক ও শৈলকুপার কালীনদী পাড়ের বৃদ্ধ জেলে দুর্লভ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এক সময় চিত্রা, কুমার নদীতে বড় বড় নৌকা চলত। ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। লঞ্চ-স্টিমার চলত। এখন নদীতে মাছ মেলে না। জেলেরা মাছ ধরা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। এক সময় নদীগুলোর দুকূল ছেপে গ্রামে পানি ঢুকে পড়তো। এখন পানির জন্য শুধুই হাহাকার। মিষ্টি পানির প্রবাহ না বাড়াতে পারলে এক সময় সাগরের লোনা পানিতে ছেয়ে যাবে খুলনার পার্শ্ববর্তী এক সময়কার বৃহত্তর যশোরের এ অঞ্চলের নদ-নদী। এ অঞ্চলের পানি সম্পদ উন্নয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন প্রকল্প নেই। দীর্ঘদিন খনন না করায় নদীর বুকে চর ও পলি পড়েছে। ভবিষ্যতে খনন কাজের স্কীম পেলে উদ্যোগ নেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এমনটি জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ। ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের নিম্নমুখিতা রোধ, ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ বৃদ্ধি, পরিবেশ ভারসাম্য ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য এ অঞ্চলে সমন্বিত পানি সম্পদ উন্নয়নে প্রকল্প প্রণয়নের তাগিদ অনুভব করছে পরিবেশবাদী ও পানি বিশেষজ্ঞরা। ঝিনাইদহ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত মৃত নদ-নদীগুলো পুনঃখনন ও নাব্যতা ফিরে আসবে- এমন প্রত্যাশা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম।

শেয়ার