নারীদের ধরে এনে নির্যাতন, ধর্ষণ করতেন এটিএম আজহার

ejahar
সমাজের কথা ডেস্ক॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের অষ্টম সাক্ষী মো. মুজিবর রহমান মাস্টার।

সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন, রংপুরের বদরগঞ্জ থানার লোহানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এটিএম আজহারুল ইসলাম ১৯৭১ সালে বদরগঞ্জ, পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রামেগুলোতে ১২শ’র বেশি মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগীদের সঙ্গে গ্রামে যান তিনি।

এছাড়া রংপুর শহরের টাউন হলে অসংখ্য নারীকে ধরে এনে ধর্ষণ ও নির্যাতনের সঙ্গেও এটিএম আজহার জড়িত ছিলেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষী আরো বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলাম ইসলামী ছাত্রসংঘের রংপুরের কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে আলবদরের একজন কমান্ডারও ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বুধবার সাক্ষ্য দেন ৭৭ বছর বয়সী মো. মুজিবর রহমান। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ সাক্ষীকে জেরা করা শুরু করেন আজহারের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

সাক্ষ্যে মো. মুজিবর রহমান জানান, ১৯৭১ সালে তিনি বদরগঞ্জ শ্যামপুর হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তার বয়স ছিল ৩৩ বছর। এছাড়া ১৯৭০ সালে বদরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

সাক্ষী মুজিবর বলেন, ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই দুই নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীদের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন।

৭ মার্চের ভাষণের পরেই বদরগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন পাড়া, মহল্লা, গ্রামে সংগ্রাম কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে আমরা এলাকার সংগ্রাম কমিটিগুলো সক্রিয় হই। এলাকার সাধারণ জনগণসহ সবাই ২৮ মার্চ রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করি।

ওই ঘেরাওয়ে নেতৃত্ব দেওয়া ছয় জনের মধ্যে তিনি নিজেও একজন ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সাক্ষী।

পরে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বাঙালি সৈন্যরা বদরগঞ্জ এলাকায় চলে আসলে ১৯৭১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ওই এলাকা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেয়ার