অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে লড়াইয়ে পাকিস্তান

pak
সমাজের কথা ডেস্ক॥ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে অস্ট্রেলিয়াকে ১৬ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ে ‘গ্রুপ অব ডেথে’ লড়াইয়ে ফিরল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
মিরপুর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে রোববারের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৯১ করে পাকিস্তান। জবাবে শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ১৭৫ রান করে অস্ট্রেলিয়া।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। জুলফিকার বাবরের প্রথম ওভারে বিদায় নেন ডেভিড ওয়ার্নার ও শেন ওয়াটসন।
তবে চার নম্বরে নামা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের প্রতিআক্রমণে দিশেহারা হয়ে যায় পাকিস্তান। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কোনো জবাবই খুঁজে পাচ্ছিলেন না পাকিস্তানের অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ।
তৃতীয় উইকেটে অ্যারন ফিঞ্চের সঙ্গে মাত্র ৬৪ বলে ১১৮ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান ম্যাক্সওয়েল। দ্বাদশ ওভারে অস্ট্রেলিয়াকে ২ উইকেটে ১২৬ রানের দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে দেন তিনি।
১৮ বলে অর্ধশতকে পৌঁছানো ম্যাক্সওয়েলকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর কৃতিত্ব শহীদ আফ্রিদির। তার বলে আহমেদ শেহজাদের ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ৭৪ রান করেন ম্যাক্সওয়েল। তার ৪৮ বলের ইনিংসটি ৭টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো। এ রান করার পথে বিলাওয়াল ভাট্টির করা অষ্টম ওভারে ৩০ রান নিয়েছিলেন তিনি।
ম্যাক্সওয়েলের বিদায়ের পর ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। ষোড়শ ওভারে অধিনায়াক জর্জ বেইলিকে ফেরান আফ্রিদি। ১৮তম ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে ফিঞ্চকে বোল্ড করা সাঈদ আজমলের অবদানও কম নয়। ৬৫ রান করা ফিঞ্চের ৫৪ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা।
শেষ ১০ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৭৫ রান, হাতে ছিল ৮ উইকেট। কিন্তু পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় শেষ ওভারে তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩ রান। বিলাওয়ালের সেই ওভারে শেষ ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬ রান যোগ করে তারা।
পাকিস্তানের পক্ষে চারজন বোলার দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে শুরুতে প্রথম পাঁচ ওভারে ২ উইকেট হারালেও পরের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারে পাকিস্তান।
দ্বিতীয় ওভারেই ফিরতি ক্যাচ নিয়ে আহমেদ শেহজাদকে বিদায় করেন ডাগ বোলিঞ্জার। চতুর্থ ওভারে তার বলেই পরপর দুটি চার মেরে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেয়া হাফিজ ফিরেছেন পরের ওভারেই। ওয়াটসনের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হন হাফিজ।

তৃতীয় উইকেটে দুই ভাই উমর আকমল ও কামরান আকমলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায় পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে সফল দুই ব্যাটসম্যান কামরান দেখেশুনে খেললেও উমরের ব্যাটে ছিল ঝড়।
কামরানকে (৩১) বিদায় করে ৫১ বল স্থায়ী ৯৬ রানের চমৎকার জুটি ভাঙেন নাথান কোল্টার-নাইল। এরপর শোয়েব মাকসুদ দ্রুত বিদায় নিলেও উমর ও শহীদ আফ্রিদি (অপরাজিত ২০) দলকে দুইশ’ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান।
শেষ ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেয়ার আগে ৯৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ম্যাচ সেরা উমর। ৫৪ বলে খেলা তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটিতে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা। অথচ ২২ রানে ব্র্যাড হগের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গিয়েছিলেন উমর।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে কোল্টার-নাইল ৩৬ রানে ২ উইকেট নেন।
২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রস আইল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ১৯১ রান করেও ৩ উইকেটে হেরেছিল পাকিস্তান। এবার একই স্কোর করে হতাশায় আর পুড়তে হয়নি তাদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯১/৫ (শেহজাদ ৫, কামরান ৩১, হাফিজ ১৩, উমর আকমল ৯৪, মাকসুদ ৫, আফ্রিদি ২০*, মালিক ৬*; কোল্টার-নাইল ২/৩৬, বোলিঞ্জার ১/২৮, স্টার্ক ১/৩৫, ওয়াটসন ১/৩৮)

অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৭৫ ওভার (ওয়ার্নার ৪, ফিঞ্চ ৬৫, ওয়াটসন ৪, ম্যাক্সওয়েল ৭৪, বেইলি ৪, হজ ২, হ্যাডিন ৮, কোল্টার-নাইল ০, স্টার্ক ৩, হগ ৩, বোলিঞ্জার ০*; বাবর ২/২৬, গুল ২/২৯, আফ্রিদি ২/৩০, বিলাওয়াল ২/৩৬, আজমল ১/৩৩)

ম্যাচ সেরা: উমর আকমল।

শেয়ার