হংকং লজ্জার পরও মূল পর্বে বাংলাদেশ

9

Afghan Bating
সমাজের কথা ডেস্ক॥
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কাতেই ফেলে দিয়েছিল হংকং। সেটা এড়ানো গেলেও লজ্জার হার এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। অল্প রানের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২ উইকেটে জিতে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমকটা দেখিয়েছে তারা। টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশকে হারানোর স্বপ্নটাও সত্যি হয়েছে হংকংয়ের।
দ্রুত রাত তুলতে গিয়ে ২১ বল বাকি থাকতেই ১০৮ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ হিসেবে তখন হংকং নয়, দাঁড়িয়ে যায় আরেক সহযোগী দেশ নেপাল।

হংকং ১৩.২ ওভারের নিচে লক্ষ্যে পৌঁছালে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিত বাংলাদেশ। শ্রেয়তর রানরেটে ‘আসল’ বিশ্বকাপে উঠতো আগের ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে অপেক্ষায় থাকা হিমালয় কন্যার দেশটি। সাকিব বীরত্বে তা আর হয়নি। তবে ২ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌছে যায় হংকং।

ম্যাচের প্রথম ভাগে ‘প্রস্তুতি ম্যাচের’ আমেজে থাকা বাংলাদেশের বিরতির পর প্রথম লক্ষ্য ছিল অবশ্যই ১৩.২ ওভার পর্যন্ত হংকং ইনিংস টেনে নেয়া। আর এই লক্ষ্য পূরণে মূল ভূমিকা রাখেন সাকিব আল হাসান।

সুপার টেন নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় ওভারেই বোলিংয়ে আনা সাকিবকে দিয়ে টানা চার ওভার বল করান মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় বলেই ওয়াকাস বারকাতকে স্ট্যাম্পিং করে দলকে সাফল্য এনে দেন সাকিব।

অষ্টম ওভারটি সাকিব করবেন কি না তা নিয়ে ছোট্ট একটা মিটিংই বসে যায় মাঠে। একটা জুয়াই খেলেন মুশফিক। সাকিবকে শেষ ওভারটি করতে দেন তিনি। হতাশ করেননি দেশের সেরা অলরাউন্ডার।

প্রথম বলে বিপজ্জনক ইরফান আহমেদ ও শেষ বলে অধিনায়ক জেমি অ্যাটসকিনসনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি।

৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেয়া সাকিবের নৈপুণ্যেই খেলায় ফিরে বাংলাদেশ। এরপর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও আল-আমিন হোসেনের চমৎকার বোলিংয়ে ‘সুপার টেন’ নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের।

দশম ওভারে ৫০ রানে প্রথম ৫ ব্যাটসম্যানের বিদায়ে বিপদে পড়লেও দলকে ৬ উইকেটে ১০০ রানের সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিলেন মুনির দার। চার বলের ব্যবধানে মুনির ও তানভীর আফজালের বিদায়ে খেলায় ফিরে বাংলাদেশ।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ৬ রান প্রয়োজন ছিল হংকংয়ের। পুরো ম্যাচেই নিজের ছায়া হয়ে থাকা আব্দুর রাজ্জাকের চার বল থেকেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নিতে কোনো সম্যসা হয়নি তাদের।

এর আগে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। তানভীর আফজালের করা প্রথম ওভারেই বিদায় নেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান।

দ্বিতীয় বলে বোল্ড হয়ে যান তামিম। আর শেষ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিন নম্বর ব্যাটসম্যান সাব্বির।

তৃতীয় উইকেটে এনামুল হককে নিয়ে বিপদ কাটানোর চেষ্টা করেন সাকিব আল হাসান। নাদিম আহমেদের বলে টানা তিনটি চার মেরে এনামুল বিদায় নিলে ভাঙ্গে ৩০ বলে ৪৮ রানের জুটি। জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন এনামুল।

অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে সাকিবের সাবলীল ব্যাটিং দলকে একাদশ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৫ রানের চমৎকার অবস্থানে দাঁড় করিয়েছিল। ২৭ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৩৪ রান করে সাকিবের বিদায়ের পরেই খেলার চিত্র পাল্টে যায়।

এরপর স্বাগতিকদের ইনিংস টেকে আর মাত্র ৩৫ বল। ২৩ রানে তারা হারায় শেষে ৭ উইকেট।

দ্বাদশ ওভারে বিদায় নেন মুশফিক। এক ওভার বিরতির পর অধিনায়ককে অনুসরণ করেন মাহমুদুল্লাহ। পরের ওভারের পরপর দুই বলে ফরহাদ রেজা ও আব্দুর রাজ্জাকের বিদায়ে বিপদ আরো বাড়ে।

এক প্রান্তে নাসির হোসেন অবিচল থাকলেও অন্য প্রান্তে রুবলে হোসেন ও আল-আমিন হোসেনের বিদায়ে ২১ বল বাকি থাকতেই থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।

২১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাঁহাতি স্পিনার নাদিম হংকংয়ের সেরা বোলার। বাংলাদেশকে অল্প রানে বেধে রাখতে ১৯ রানে ৩ উইকেট নেয়া লেগস্পিনার নিজাকাতের অবদানও কম নয়।

LEAVE A REPLY