খালেদার দুর্নীতির মামলায় রাজনীতির গন্ধ নেই: মন্ত্রী

93

anisul-haque-law-minister
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিএনপির অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, খালেদা জিয়া যে দুটি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন- সেগুলোর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “খালেদা জিয়ার এই মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনুসন্ধান শুরু করেছিল। মামলা করেছে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন। এখানে রাজনীতির তো কোনো গন্ধ আমি পাই না।”
জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ২০১১ সালে এবং জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে ২০০৮ সালে মামলা দুটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
দুর্নীতির এসব মামলায় বুধবার খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে তারেক রহমানের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
অভিযোগ গঠনের পর আদালত কক্ষে আইনজীবীদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে খালেদা বলেন, “কই আমাকে তো কিছু জিজ্ঞেস করা হলো না- আমি দোষী, না নির্দোষ। আমাকে চার্জ পড়েও শোনানো হলো না।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, “মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে আর কোনো কথা বলব না। কিছু জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন।”
আদালত অবমাননা আইন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে একটি খসড়া হলেও শেষ পর্যন্ত আইন হয়নি। আইনটির প্রয়োজনীয়তা আছে কি না সবার সঙ্গে কথা বলে তা দেখা হবে।
“আগের যে আইন ছিল তার কোনো কোনো জায়গায় বদলানো উচিৎ। কোন কোন জায়গায় ঠিক করা উচিত তা আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেব।”
কখন এ আইন করা হবে এবং কেন করা হবে- সে বিষয়েও সবার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান আনিসুল।
দুটি লেখায় আদালত অবমাননার দায়ে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক মিজানুর রহমান খানকে সম্প্রতি সাজা দেয় আদালত। ভবিষ্যতে এ ধরনের লেখা ছাপাতে প্রথম আলোসহ অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমকেও সতর্ক করে দেয়া হয়।
আনিসুল হক বলেন, “বর্তমানে আদালত অবমাননা আইন না থাকলেও এ সংক্রান্ত আগের মামলাগুলোতে কিছু কিছু গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। আগের জাজমেন্টের আলোকে যেসব রায় ছিল তাও কিন্তু বিদ্যমান।”
ওইসব রায়ের মাধ্যমে কখন আদালত অবমাননা হবে আর কখন হবে না সেটা নিয়ে একটা অলিখিত নীতিমালা পাওয়া গেছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “সেটি অনুসরণ করলে সাংবাদিকরা এসব সমস্যায় পড়বেন না।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ নাসের আল বুশাইরির সঙ্গে বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি জানান, সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে তার ‘সেকেন্ড হোম’ অভিহিত করেছেন এবং ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY