সাগরে বিধ্বস্ত হয়নি মালয়েশীয় উড়োজাহাজ

malay
সমাজের কথা ডেস্ক॥
মালয়েশিয়ার নিখোঁজ উড়োজাহাজটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়নি। এটি বিধ্বস্ত হলে সাগরে উড়োজাহাজের ভগ্নাংশ, সমুদ্রে ভাসমান তেলের লাইন, যাত্রীদের জামা-কাপড়সহ কোনো না কোনো ধরনের আলামত পাওয়া যেত।

উড়োজাহাজ নিখোঁজের পর সম্ভাব্য আলামত ও সর্বশেষ পাওয়া তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে এটি বিধ্বস্ত হয়নি বলেই ধারণা করছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অপারেশন্স ডিরেক্টর কমডোর এস এম হাকিম। নৌ গোয়েন্দা পরিচালক কমোডর এম রাশেদ আলীও কমডোর হাকিমের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
নৌবাহিনীর সদরদপ্তরে বুধবার মালয়েশিয়ার নিখোঁজ উড়োজাহাজের খোঁজে বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর অনুসন্ধান কার্যক্রম নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তারা এসব কথা বলেন।
কমডোর রাশেদ বলেন, প্রকৃপক্ষে ওই উড়োজাহাজটির ভাগ্যে কি ঘটেছে তা বাংলাদেশ থেকে স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে এটা ঠিক উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে কোনো না কোনো চিহ্ন সাগরে পাওয়া যেত। বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ৫ দিন সাগরে বিস্তর অনুসন্ধান করে এ ধরনের কোনো আলামতই পায়নি। ঠিক তেমনি একই ধরনের অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান ব্রুনাই, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনামসহ ২৬টি দেশের নৌবাহিনীও কিছু পায়নি।
ডিরেক্টর নেভাল অপারেশনস কমডোর এসএম হাকিমের মতে, সমুদ্রে বিধ্বস্ত হলে যাত্রীদের কাপড়, উড়োজাহাজের ভগ্নাংশ ও ট্যাঙ্ক ফেটে তেল সাগরে ভেসে থাকতো। কারণ দু’এক টন নয়, উড়োজাহাজে টনকে টন তেল থাকে। তাছাড়া এটি যত জোরেই সাগরে পড়ুক না কেন, তা সমূদ্রের উপরিদেশে থাকতেই ভেঙে যেতো। কোনোভাবেই গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
নৌবাহিনীতে দীর্ঘদিনের চাকরির অভিজ্ঞতা থেকে কমডোর রাশেদ বলেন, যদি কোনো অ্যাঙ্গেলে এটি সমুদ্রে ডুবেও যেত, তবু পানির চাপে উড়োজাহাজের বডি ভেঙে যাবে। পরবর্তীতে এটি পানির ওপরের স্তরে ভেসে উঠবেই।
কমডোর এসএম হাকিম বলেন, উড়োজাহাজটির ভেতর থেকে এর ট্রান্সপন্ডার ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি তা না করা হতো তাহলে এটি কোনো না রাডারের সিগনালে ধরা পড়তো।
দেশের সমূদ্র এলাকাকে ৮টি ভাগে (ব্লকে) বিভক্ত করে উড়োজাহাজের সম্ভাব্য গতিপথ ধরে এ পর্যন্ত ৮৭ হাজার ৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা সমুদ্রে অনুসন্ধান চালিয়েছে নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ। এর পাশাপাশি নৌবাহিনীর নিয়মিত টহলের ২০টির বেশি জাহাজও উড়োজাহাজ অনুসন্ধানের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতার অবলম্বন করে কাজ করেছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১৫ মার্চ থেকে এই অনুসন্ধান শুরু করে। দেশের পুরো সমুদ্র এলাকা অনুসন্ধান শেষ হয়ে গেলেও পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের এ অভিযান চলবে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

শেয়ার