জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা খালেদার বিচার শুরু

Khaleda
সমাজের কথা ডেস্ক॥ দুর্নীতির দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ-৩ বাসুদেব রায় বুধবার জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট ও জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ২১ এপ্রিল দিন ঠিক করে দেন।
এর আগে খালেদা জিয়া সময়ের আবেদন করলেও তা নাকচ হয়ে যায় বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান।
খালেদা জিয়ার সময়ের আবেদন খারিজের পর তার আইনজীবীদের হট্টগোলের মুখে দুই দফায় এজলাস থেকে নেমে যান বিচারক।
পরে খাস কামরায় বসে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন তিনি।
অভিযোগ গঠনের পর আদালত কক্ষে নিজের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, “কই আমাকে তো কিছু জিজ্ঞেস করা হলো না- আমি দোষী, না নির্দোষ।”
এর আগে বেলা সোয়া ১টার দিকে আদালতে দুই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আসামিপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করে। আদালত তা খারিজ করে অভিযোগ গঠনের উদ্যোগ নিলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করেন। এক পর্যায়ে দেড়টার দিকে আদালত কক্ষ ছেড়ে যান বিচারক।
এরপর খালেদা জিয়ার কয়েক আইনজীবী আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন নিয়ে বিচারকের খাস কামরায় যান। বেলা সোয়া ৩টার দিকে দ্বিতীয় দফায় এজলাসে উঠেন বিচারক।
এ সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীরা দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানালে তার প্রতিবাদ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। বিচারকের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনবেন বলেও আদালতে বলেন তারা।
এ সময় মিনিট দশেক শুনানির পর ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ফের এজলাস থেকে নেমে যান বিচারক। পৌনে ৪টার দিকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হওয়ার কথা জানান খালেদার আইনজীবীরা।
বেলা সোয়া ১টায় অভিযোগ গঠনের শুনানির শুরুর আগে আদালত কক্ষে নির্ধারিত চেয়ারে বসেন খালেদা জিয়া। সেই সময় থেকে অভিযোগ গঠন পর্যন্ত সেখানে বসেছিলেন তিনি। বিকাল ৩টা ৫১ মিনিটে খালেদা জিয়া আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ২০১১ সালে এবং জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে ২০০৮ সালে মামলা দুটি দায়ের করে দুর্নতি দমন কমিশন।

এর মধ্যে দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দুদকের দেয়া অভিযোগপত্র গত বছর ১৫ জানুয়ারি গ্রহণ করে আদালত। সর্বশেষ ওইদিনই আদালতে হাজির হয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা।
তার আইনজীবীদের আবেদনে এতিমখানা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৪১ বার এবং দাতব্য ট্রাস্ট মামলার শুনানি ১১ বার পিছিয়ে যায়।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে হাজির হওয়ার জন্য শেষবারের মতো সময় দেন বিচারক। ওইদিন আদালতের আদেশে বলা হয়, ১৯ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসন আদালতে না এলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।
মামলা বৃত্তান্ত : ২০১১ সালের ৮ অগাস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।
তেজগাঁও থানার এ মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
এদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু হতেই পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। খালেদাসহ বাকি দুই আসামি জামিনে রয়েছেন।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অন্য মামলাটি দায়ের করে।
এতিমদের সহায়তার জন্য একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ ২০১০ সালের ৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
তারেক রহমান উচ্চ আদালতের জামিনে গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আছেন জামিনে। বাকি দুজন পলাতক।

শেয়ার