অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

PM inner
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাকের দিনে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সব অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “ষড়যন্ত্র করে কেউ পারে নাই। বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে কেউ খেলতে পারবে না।”
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত’ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথাও আওয়ামী লীগের এই জনসভায় তুলে ধরেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বহুবার দেশের মানুষকে আন্দোলনে ডাকলেও কেউ তার সেই ডাকে সাড়া দেয়নি মন্তব্য করে শেখ হাসিনা জনগণকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।
বিকাল সাড়ে ৪টার পর তিনি সমাবেশস্থলে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা শ্লোগানে শ্লোগানে তাকে স্বাগত জানান।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এই ময়দান থেকেই বাঙালিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে ডেকেছিলেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান।
পাকিস্তানের অধীনে ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু সেদিন বলেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই প্রেক্ষাপট এবং পরে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাঁক বদলের ঘটনাগুলো প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও মুখে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তাকেও হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ওই হামলার জন্য তখনকার সরকারে থাকা বিএনপি-জামায়াত জোটকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওই হামলার সঙ্গে তারা জড়িত- এতে কোনো সন্দেহ নাই।”
শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি নেত্রী বহুবার ডাক দিয়েছে, কেউ উনার ডাকে সাড়া দেয় নাই। উনার আন্দোলন মানেই মানুষ পুড়িয়ে মারা, ধ্বংসযজ্ঞ চালানো।”
‘যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা আর খুনখারাবিই’ বিএনপির চরিত্র- এমন মন্তব্য করে বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “আর কতো রক্ত হলে তার পিপাসা মিটবে আমি জানি না।”
গত নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের আন্দোলনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেড়শর ওপরে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। হাজার হাজার গাছ কেটেছে। রাস্তঘাট কেটে ফেলেছে। এটাই তাদের আন্দোলনের রীতি।
সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। বিকাল ৩টার পর সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হয় এ সমাবেশ।
আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে তোফায়েল আহম্মেদ, আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মাহাবুবুল আলম হানিফ, শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা জনসভা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার