সাকিবকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া মুশফিকরা

mushfik
সমাজের কথা ডেস্ক॥
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে অশোভন অঙ্গভঙ্গি করায় সাকিব আল হাসানের তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সমাপ্তি ঘটল। পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপের তৃতীয় ম্যাচে দেখা যাচ্ছে তাকে। এমন সময়ে তিনি দলে ফিরছেন যখন একেবারে খাঁদের কিনারায় স্বাগতিকরা। তবুও তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। সেই আশায় বুক বেঁধেছে দেশের ক্রিকেট ভক্তরা।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগের দিন মিরপুর বিসিবি এ্যাকাডেমি মাঠে কঠোর অনুশীলন করেছে দলের খেলোয়াড়রা। শেষ দু’টি ম্যাচের মধ্যে যেকোনো একটি জয়ই বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে। এমনটা মনে করেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম,‘ভালো ম্যাচ খেলার এখনও দুটি সুযোগ আছে আমাদের। আমরা যদি তিনটি বিভাগেই ভালো খেলি তাহলে অবশ্যই জয় পাব। একটি ম্যাচ লাগে নিজেদের ফিরে পেতে। ওই ম্যাচে সবাই যদি ভালো শুরু করতে পারি এবং তিনটি বিভাগেই ভালো করি তাহলে আশা করি শেষ দু’টি ম্যাচের যে কোনো একটি ম্যাচে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা থাকবে।’
গত এশিয়া কাপের জের টেনে তিনি আরো বলেন,‘গতবছর শেষ দু’টি ম্যাচ ভালো খেলে আমরা ফাইনালে গিয়েছিলাম। আমাদের খুব ভালো একটা স্মৃতি আছে। যদিও আমরা এখন আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারছি না। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অবশ্যই আমরা চেষ্টা করবো যেনো বাকি দু’টি ম্যাচ ভালোভাবেই শেষ করতে পারি।’
দলের মধ্যে যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন,‘সমস্যা বলতে আমরা পুরো দল একসাথে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে পারছি না। এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। একদিনের খেলায় যে কেউ কোনো একটা ভালো পারফর্ম করে তবে তার জন্য ম্যাচ জেতানোটা সহজ হয়। এদিক থেকে বলবো সবাই যার যার জায়গায় থেকে জানে কার কী দায়িত্ব? অবশ্যই সবার সেখানে লক্ষ্য রয়েছে। আশা করছি কাল ভালো ক্রিকেট খেলব।’
তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কটিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে দেশ সেরা অল রাউন্ডার সাকিব। তার ফেরাটা দলে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে জানালেন অধিনায়ক,‘এটা আমাদের জন্য ভালো একটি দিক। সাকিব আসলে দলে একটু ভারসাম্য হবে। ও যে ধরনের ক্রিকেটার যদি ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই সেরাটা দিতে পারলে দলের জন্য সেটা গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
রোববার বিসিবির সভাপতি কোচ ও দলপতির সঙ্গে পৃথক ভাবে বৈঠক করেছেন। সেখানে চারজন খেলোয়াড়ের নাম এসেছে যারা স্বাভাবিক খেলা দিতে পারছেন না। তাদের উপর দায় ভার না চাপিয়ে নিজেকেই দোষী মানছেন মুশফিক। যারা পারফর্ম করতে না পারবে তাদের খেসারত দিতে হবে মনে করেন তিনি,‘নাম এসেছে যাদের। তাদের চাপ নেওয়ার কিছু নেই। অধিনায়ক হিসেবে আমার মনে হয় আমি দলটাকে ওভাবে নেতৃত্ব দিতে পারছি না। এ কারনে হয়তো সমস্যাগুলো সৃষ্টি হচ্ছে। আমার মনে হয় সব জবাবদিহিতা আমার এবং কোচের। অবশ্যই দল যখন ভালো করে আমরাই কৃতিত্ব নেই। আমরা চেষ্টা করছি দুর্ভাগ্যবশত আমাদের হচ্ছে না। আমরা যারা এখানে এসেছি পারফর্ম করতে, যদি পারফর্ম ভালো না পারি তাহলে দলের বাইরে যেতে হবে এটাই মূল বিষয়।’
আফগানদের সঙ্গে হারার পর এ পরিস্থিতিতে যেকোনো দল বাংলাদেশের জন্যে চ্যালেঞ্জ মনে করেন তিনি,‘আমরা বর্তমানে যে জায়গায় আছি শুধু পাকিস্তান কেন যে কোনো দলের সঙ্গেই খেলা চ্যালেঞ্জের। শেষ যে ম্যাচটি আমরা হেরেছি সেটা খুব বাজে ছিল আমাদের ক্রিকেটের জন্য।’

শেয়ার