কেশবপুরে শিক্ষাঙ্গণ রাহু মুক্ত করতে প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের ব্যতিক্রম উদ্যোগ

ismat ara

ওহাবুজ্জামান ঝন্টু॥

শিক্ষাঙ্গণ রাহু মুক্ত করতে কেশবপুরে ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। সংসদ সদস্য নির্বাচিত এবং সর্বশেষ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার নির্বাচনী এলাকায় প্রথম পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে কেশবপুর একটি আলোকিত উপজেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন তিনি।
কেশবপুরে বর্তমানে মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৮৯ টি। যার মধ্যে কলেজ ১৩ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫২এবং মাদ্রাসা রয়েছে ৫১ টি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। প্রতিষ্ঠান গুলোতে উপবৃত্তি এবং বিনামুল্যে বই বিতরণসহ অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকলেও পড়া লেখার মান সেভাবে অগ্রসর হয়নি। জেএসসি, এসএসসি এবং মাধ্যমিকের ফলাফলে কিছুটা সাফল্যের দেখা মিললেও এপর্যন্ত বোর্ড সেরা বা সেরা ২০এ চমক দেখাতে পারেনি কেশবপুরের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনিয়ম অব্যবস্থাপনা দুর্নীতি নিয়োগ বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক
প্রভাব এর প্রধান কারণ বলে মনে করেন সচেতন মহল। বিগত সময় দেখা গেছে শিক্ষানুরাগীদের পাশ কাটিয়ে দলীয় বিবেচনায় কমিটি গঠন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেন দেন হওয়ায় শিক্ষাঙ্গনের বাইরে থেকে যান মেধাবিরা। উপযুক্ত থাকার পরও নিয়োগ বোর্ডকে খুশী করতে না পারায় চাকরি পাননি তারা। গত ১২ বছরে সারা দেশে এমন ঘটনা ঘটলেও কেশবপুরে এর মাত্রা ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি। এতে ব্যক্তি বিশেষের পকেট ভারি হলেও মোটা দাগে ক্ষতি হয়েছে সেখানকার আলোর স্বপ দেখা মানুষের। উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্বেও তাদেরকে থেকে যেতে হয়েছে পিছনের কাফেলায়।
বাংলা সাহিত্যে সনেট প্রবত্যক মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কেশবপুরের উন্নয়নের রূপকার বলা হয় প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেককে । বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি যে অবদান রেখেছেন তা মাইলক। শুধু কেশবপুর নয় বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে আলোকিত করেছেন তিনি। আর তা সম্ভব হয় বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্বীকৃতি আদায়ের মধ্য দিয়ে। যেখানে তিনি শিক্ষামন্ত্রী হিসেব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর অনন্য অবদান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অনাগ্রসর কেশপুরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যিনি নিরালসভাবে কাজ করেছেন সেই কেশবপুরের শিক্ষাঙ্গনের দুরাবস্থা মোটেও মেনে নিতে পারেননি তারই সহধর্মিণী ইসমাত আরা সাদেক। তাই জনপ্রশাসমন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর হাত দিয়েছেন শিক্ষাঙ্গনে। জজ্ঞালমুক্ত করে শৃংখলা এবং সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে তার প্রধান লক্ষ্য। যার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দলীয় বিবেচনা বাদ রেখে সম্পূর্ণ নৈতিক গুন সম্পন্ন শিক্ষানুরাগীদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে। তিনি মনে করেন প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকা শক্তি কমিটি। কমিটি যোগ্যতা সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানে প্রাণ ফিরে আসবে। এক্ষত্রে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাতা বা তাদের পরিবারের সদসরা প্রধান্য পাচ্ছেন। শিক্ষা মস্ত্রনালয়ের সর্বশেষ পরিপত্র অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত ৫টি কলেজের সভাপতি এবং সদস্য মনোনয়ন দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে কেশবপুর ডিগ্রি কলেজে সভাপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন অন্যায়ভাবে চাকরি চ্যূত ওই কলেজের অধ্যাপিকা রেবা ভৌমিক এবং সদস্যপদে মনোনয়ন পেয়েছেন কেশবপর প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান,কেশবপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজে অ্যাড, আবুবকর সিদ্দিক সভাপতি এবং মিসেস হাসান সাদেককে সদস্যপদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, বরণডালি সম্মিলনী মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এরশাদ আলী সভাপতি সদস্য রনজিত দাস, পাঁজিয়া মহাবিদ্যলয়ে প্রতিষ্ঠাতা মহাতাপ উদ্দিন,সদস্য কাজল চৌধুরী এবং হিজল ডাঙ্গা মহা বিদ্যালয়ে সভাপতি সামছুর রহমান এবং সদস্যপদে জুলফিকার আলী জুলুকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কেশবপুরের সচেতন মহল। তারা বলেছেন এর মাধ্যমে কেশবপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন জঞ্জালমুক্ত হবে তেমনি শিক্ষা ক্ষেত্রে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

SHARE