যশোরে আলু ক্ষেতে নাবি ধসা রোগ॥ চাষীদের মাথায় হাত

1111111
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে আলুচাষীদের মাথায় হাত উঠেছে। আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়াসহ ক্ষেতে নাবি ধসা রোগ দেখা দেয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, জেলায় এবার ২ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে। কৃষকরা সাধারণত বিএডিসি ও ব্র্যাকের ডিলারদের কাছ থেকে বীজ ক্রয় করে আলু চাষ করেছেন। কিন্তু ব্র্যাকের ডিলারদের কাছ থেকে যেসব কৃষক বীজ কিনে আলু আবাদ করেছেন সেসব ক্ষেতে নাবি ধসা রোগ দেখা দিয়েছে। এ কারণে বিঘা প্রতি ২০/২৫ মণ আলু কম উৎপাদন হবে বলে কৃষকরা আশংকা করছেন। সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির উত্তরপাড়ার মাঠে কথা হয় এ গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলমের সাথে। তিনি বলেন, আলু ক্ষেতে রোগ দেখা দেয়ায় এবার বিঘা প্রতি ২০/২৫ মণ ফলন কম হবে। ফলে তার কোন লাভ হবে না। কৃষক আব্দুর জব্বার জানান, একদিকে আলু ক্ষেতে রোগ লেগেছে। অন্যদিকে পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে আলু। তিনি জানান, স্থানীয় বাজার সাতমাইলে কেজি প্রতি আলু পাইকারি ৭ থেকে সাড়ে ৭ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এতে তারা লাভের মুখ দেখছেন না। চৌগাছার স্বরূপদাহ গ্রামের গিয়াস উদ্দীন জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেন। প্রতি বিঘা জমিতে ৮০ মণ আলু উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু প্রতি মণ আলু বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা। এ হিসেবে তার আয় হয়েছে ২৪ হাজার টাকা। কিন্তু খরচ হয়েছে এর চেয়ে বেশি।
এদিকে কৃষকরা জানিয়েছেন, ব্র্যাকের বীজ প্রতি মণ ১ হাজার ১০০ টাকা। আর বিএডিসির বীজ ১ হাজার ৩০০ টাকা। ২০০ টাকা সাশ্রয়ের জন্য অধিকাংশ কৃষক ব্র্যাকের ডিলার যশোর সদরের চুড়ামনকাটি বাজারের আবু সালেহ সীডস এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ থেকে বীজ ক্রয় করে আলু আবাদ করেছেন। তবে যেসব কৃষক ব্র্যাকের বীজ ব্যবহার করেছেন তাদের ক্ষেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শেখ হেমায়েত হোসেন। তিনি জানান, আলুতে নাবি ধসা রোগ হওয়ায় খবর পেয়ে তিনিসহ কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে ক্ষেত পরিদর্শন করেন। ক্ষেতে গিয়ে তিনি দেখেন আলু উঠার আগেই গাছের বেশির ভাগ অংশ পঁচে যাচ্ছে। এর ফলে আলু আর বড় হবে না। এতে উৎপাদন কম হবে। তিনি আরও বলেন, রোগ প্রতিরোধে তিনি কৃষকদের সপ্তাহে তিন বার সিকিইর ও মলোডিওলিও স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে তারা নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা করেন। ন্যায্য মূল্য বা বাজার দর নিয়ে তাদের কিছুই করার নেই।
এদিকে, বীজের কারণে নাসি ধসা রোগ হয় না বলে দাবি করেছেন যশোর সদরের চুড়ামনকাটি বাজারের আবু সালেহ সীডস এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ইউসূফ আলী। তিনি বলেন, বীজের কারণে এ রোগ হলে ১৫ দিনের মধ্যেই কোন না কোন লক্ষণ দেখা দিত। ঘন কুয়াশা ও শীতজনিত কারণে এমন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

SHARE