দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা খালেদারও বিচার চায় আওয়ামী লীগ

CTG
বাংলানিউজ ॥
দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান আসার কথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবগত ছিলেন এবং তার নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। একই ঘটনায় তারা খালেদা জিয়ারও বিচার চেয়েছেন।
রোববার দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নগর আওয়ামী লীগের প থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার দুপুর পর্যন্ত এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হলেও সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতারা আদালতের বেশকিছু পর্যবেণও তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় পাঠ করা সারসংেেপ বিচারক প্রকাশ করেননি এমন বিষয়েও বক্তব্য দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এসময় দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার রাষ্ট্রপরে কৌসুলী ও মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনাটি তৎকালীন ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমি তাৎণিকভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে জানালে তিনি নীরব ছিলেন। এই নীরবতার অর্থ পুরো ঘটনাটির ছক সম্পর্কে তিনি অবগত ও তার নির্দেশনায় হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আদালতের রায় পর্যবেণ করলে বারবার উঠে এসেছে অনেক দেশি-বিদেশি সংস্থাসহ হাওয়া ভবনের নাম। আর তারেক জিয়া এই হাওয়া ভবনের খলনায়ক।
অসংলগ্নভাবে লিখিত এ বক্তব্যে হাওয়া ভবনের কথা উল্লেখ করা হলেও গত ৩০ জানুয়ারি বিচারকের ঘোষিত রায়ের সারসংেেপ এমন কোন বক্তব্য ছিলনা।
অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত এ বিষয়ে একটি ব্যাখা দেন মহানগর পিপি। তিনি বলেন, তখন যদি তদন্তকারী কর্মকর্তা খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমানের বিষয়ে তদন্ত করতেন, তাহলে আরও সময়পেণ হত। বিচার শেষ করা যেতনা।
লিখিত বক্তব্যের আরেক পর্যায়ে বলা হয়, দশ ট্রাক অস্ত্র আনা হয়েছিল জঙ্গীবাদীদের ঘাঁটিতে প্রশিণ দেয়ার জন্য। এই অত্যাধুনিক মরণাস্ত্র স্বাধীনতার সপরে শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতেই ব্যবহার হত এবং দেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করা হত ও বাংলাদেশকে উপমহাদেশে জঙ্গীবাদীদের ট্রানজিটে পরিণত করা হত।
দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সা্েযর বিভিন্ন পর্যায়ে উঠে এসেছে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফা’র জন্য অস্ত্রগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিচারকের রায়ের সারসংেেপও উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া ও অনুপ চেটিয়ার প্রসঙ্গ এসেছে।
কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে ভিন্ন বক্তব্য প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আ জ ম নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলন, উলফার বিষয়টি তো ঠিক আছে। আমরা তো সেটি অস্বীকার করিনি। আবার আমাদের বক্তব্যও তুলে ধরেছি।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমরা মনে করি দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জড়িত আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় তৎকালীন নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের চরম শাস্তি হয়েছে। কিন্তু তাদের সেই সময়ের নিয়োগকারী এবং যার বা যাদের কাছে তাদের জবাবদিহিতা ছিল সেই সমস্ত নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের এখনও বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, ঘটনার নেপথ্যে যেসব রাঘববোয়াল, রুই-কাতলা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে তাদেরও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং অখ-তা নিয়ে ছেলেখেলা এক মারাত্মক অপরাধ যা মার অযোগ্য। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত যিনি বা যারাই থাকুক না কেন তাকে ও তাদের জাতীয় শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ।

SHARE