কায়সারের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর আদেশ

Kaiser
সমাজের কথা ডেস্ক॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৬টি ঘটনায় এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রোববার কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে শুনানি শুরুর দিন ঠিক করে দেয়।
এ মামলায় স্যা ও জেরা শুরুর আগে প্রসিকিউশনের ‘ওপেনিং স্টেইটমেন্ট’ শুরু হবে আগামী ৪ মার্চ।
গত বছর ১০ নভেম্বর কায়সারের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউসন, যাতে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, আটক, ধর্ষণ, মুক্তিপণ আদায়, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৫ মে কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ওইরাতেই গ্রেপ্তার করা হয় মুসলিম লীগের সাবেক এই নেতাকে। এরপর তাকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২১ মে কায়সারকে হাসপাতাল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৪ আগস্ট সৈয়দ কায়সারকে শর্তসাপেে জামিন দেয় ট্রাইব্যুনাল।
মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারাধীন আসামিদের মধ্যে কায়সার দ্বিতীয় ব্যক্তি, যাকে জামিনে রেখে বিচার কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
বিচার শুরুর আদেশ দেয়ার আগে সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হয়। এরপর বিচারক তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি দোষী না নির্দোষ।
এ সময় নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত সৈয়দ কায়সার।
সৈয়দ কায়সারের বাবা সৈয়দ সঈদউদ্দিন ১৯৬২ সালে সিলেট-৭ আসন থেকে কনভেনশন মুসলিম লীগের এমএলএ নির্বাচিত হন। সৈয়দ কায়সার ১৯৭০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ৫০০ থেকে ৭০০ ‘স্বাধীনতাবিরোধীকে’ নিয়ে ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করেন এই মুসলিম লীগ নেতা। তিনি নিজে ছিলেন এ বাহিনীর প্রধান।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সৈয়দ কায়সার পাকিস্তানি সেবাবাহিনীকে পথ দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রামে নিয়ে স্বাধীনতার পরে লোক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর দমনাভিযান চালাতেন। পরে স্বাধীনতার ঠিক আগে তিনি আত্মগোপন করেন।
১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হন কায়সার। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি।
পরে জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি বিএনপিতে যাগ দেন এবং হবিগঞ্জ বিএনপির সভাপতি হন। এরশাদের সময়ে তিনি যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে। ১৯৮৮ সালে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন।

SHARE