সাতক্ষীরায় হত্যা ও নাশকতা মামলার আসামি জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ নেতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে॥ মামলা তুলে নিতে হুমকি॥ নিহতদের পরিবারে ফের আতঙ্ক

satkhira
আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ সাতক্ষীরায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় নিহত ১৬ আওয়ামীলীগ ১৬ নেতা-কর্মী হত্যা মামলার আসামীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। এসব মামলায় প্রায় ৭শ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এহাজারভুক্ত আসামি গ্রেফতার হয়েছে মাত্র ৩২ জন। অভিযোগ উঠেছে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা জামায়াত শিবিরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এরফলে মামলার বাদীসহ নিহতের পরিবারগুলোতে চরম হতাশা ও আতংক বিরাজ করছে। মামলা তুলে নিতে আসামীরা নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত-শিবির সন্ত্রাসীরা ৪ উপজেলায় আওয়ামীলীগের ১৬ নেতাকর্মীকে হত্যা করলেও তাদের সহিংসতা চলেছে জেলা জুড়ে। যেকারণে জেলার ৮টি থানায় অন্তত: দেড় শতাধিক সহিংসতা ও নাশকতার মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৫ হাজারেরও বেশি লোককে আসামি করা হয়েছে। তবে ১৬ জনকে হত্যার ঘটনায় আসামি করা হয়েছে ৬৯৭ জনকে। পুলিশের দাবি ১৬ নেতাকর্মি হত্যার ঘটনায় ১২০ জনকে আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে এজহারনামীয় আসামীর সংখ্যা মাত্র ৩২। জামায়াত শিবির শুধু আ.লীগের ওপর তান্ডব চালিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি। রীতিমত তারা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথেও তারা একের পর এক সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। এসব ঘটনায় অন্তত: ৩৩ জন নিহত হয়েছে। জানা গেছে গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারী মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা ে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে জামায়াত শিবির। জেলাব্যাপি সহিংসতা ও তান্ডব চালিয়ে ত্রাস ছড়িয়ে দেয়। তারা আ.লীগের নেতাকর্মি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ নৃসংশ হত্যাকান্ড ঘটিয়ে একরকম অবরুদ্ধ করে ফেলে গোটা সাতক্ষীরাকে। প্রায় এক বছর ধরে জেলাজুড়ে সন্ত্রাস চলেছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা অর্ধশত ছাড়িয়ে গেছে। হামলার শিকার হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অর্ধশত পরিবারসহ দেড়শতাধিক আওয়ামীলীগ পরিবার। জামায়াত-শিবিরের তান্ডব ও সহিংসতায় অসংখ্য সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ পরিবার বাড়ি ঘর ছেড়ে এখনো পালিয়েছে রয়েছে। গত ১৮ ডিসেম্বর সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনী অভিযান শুরু করে। ধারাবাহিক অভিযানে জেলায় জামায়াতি সহিংসতা কমে আসলেও এখন স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন। ঘর ছাড়া অর্ধশত পরিবার এখনও তাদের বাড়ি ফিরতে পারেনি। সহিংসতায় নেতৃত্ব দেয়া শীর্ষ জামায়াত-শিবিরের নেতা নামের সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে থেকে এখনো নিহতের পরিবারগুলোতে হুমকি দিচ্ছে। যৌথবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হতেও দলীয় সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির জানান, আওয়ামী লীগের ১৬ নেতাকর্মীর হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, হত্যাসহ সহিংসতার সাথে জড়িতরা কেউ ছাড় পাবে না। তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোখি করা হবে।

SHARE