পাকিস্তানে ‘অনার কিলিং’ অপরাধে মৃত্যুদণ্ড

10
সমাজের কথা ডেস্ক॥ তথাকথিত ‘মর্যাদা রায় হত্যা’র (অনার কিলিং) অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে পাকিস্তানের একটি আদালত। অভিযুক্ত বাকি পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। তবে আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে তাদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের প্রদেশ কোহিস্তানে এ ঘটনা ঘটেছে।
২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে একদল নারী-পুরুষ গল্প করছেন এবং নাচছেন। এরপরই ওই হত্যার ঘটনা ঘটে।
যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা ওই ভিডিওতে থাকা পুরুষদের ভাই ছিলেন এবং যারা অপরাধী তারা ভিডিওতে থাকা নারীদের আত্মীয় ছিলেন।
পুলিশের ধারণা, ভিডিওতে থাকা নারীদের আত্মীয়রা পুরুষের সঙ্গে নারীদের নাচ ও গল্প করার জন্য অপমানিত বোধ করেছিল এবং এর প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু যেহেতু তারা ভিডিওতে থাকা পুরুষদের খুঁজে বের করতে পারেনি তাই তারা ওই পুরুষদের তিনভাইকে হত্যা করেছিল।
ওই নারীদেরও হত্যা করা হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। যদিও তাদের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তাদের পরিবার ও স্থানীয় কর্তৃপ তাদের হত্যা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
ইসলামাবাদে বিবিসির প্রতিনিধি এম ইলিয়াস জানান, কোহিস্তানে এই প্রথম ‘অনার কিলিং’ এর জন্য কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়ে শাস্তি পেল। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলটি পাকিস্তানের অত্যন্ত রণশীল এলাকাগুলোর একটি।
বিবিসির প্রতিনিধি আরো জানান, ওই অঞ্চলের আদিম ও অনমনীয় ‘অনার কোড’ অনুযায়ী কোনো নারীর পরিবার তাকে এবং তার যেকোনো প্রেমিককে হত্যা করতে পারবে।
যদি পরিবারের কাছে ওই নারী-পুরুষের প্রেমের ব্যাপারে শক্ত কোনো প্রমাণ নাও থাকে তারপরও শুধু ধারণার ওপর ভিত্তি করে পরিবারের লোকজন তাদের হত্যা করার অনুমতি পাবে।

SHARE