মধুসূদন পদক পেলেন কবি খসরু পারভেজ॥ লাখো প্রাণের উচ্ছ্বাসে শেষ হলো সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা

modhu mela
আশরাফ উজ-জামান খান, কেশবপুর॥ এবারের মহাকবি মধুসূদন পদক পেলেন সাগরদাঁড়ির সন্তান মধুসূদন গবেষক ও সাগরদাঁড়ি মধুসূদন একাডেমির পরিচালক কবি খসরু পারভেজ। তার লেখা মধুসূদন বিচিত্র অনুষঙ্গ গবেষণা গ্রন্থের জন্য ‘গবেষণাধর্মী সাহিত্যকর্ম’ ক্যাটাগরীতে তিনি এ পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন পদক মূল্যায়ন কমিটি থেকে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মধু মঞ্চে সপ্তাহব্যাপী মধু মেলার শেষ দিনে পদক বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার অশোক কুমার বিশ্বাস গবেষক ও কবি খসরু পারভেজের হাতে মধুসূদন পদক ও সৃজনশীল কবিতা লেখায় শাহানুর আলমকে পদক তুলে দেন। যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব জহুরুল হকের সভাপতিত্বে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন , শিাবিদ প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, দৈনিক ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি শ্যামল সরকার, অধ্যাপক সাধন রঞ্জণ ঘোষ, গীতিকবি মোহাম্মাদ রফিক উজজামান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম।
মধুসূদন পদকসহ কবি খসরু পারভেজকে নগদ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয়। কবি খসরু পারভেজ আশির দশকের অন্যতম প্রধান কবি। ভালোবাসা এসো ভূগোলময়, মুক্তিযুদ্ধের কুকুরগুলো, পুড়ে যায় রৌদ্রগ্রাম, জেগে ওঠো প্রতœবেলা, রূপের লিরিক, ধর্ষণমঙ্গল কাব্য, প্রেমের কবিতা, হৃদপুরাণ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। জীবনী গ্রন্থ এস.এম. সুলতান, মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং গবেষণা ও গদ্যগ্রন্থের মধ্যে মাইকেল পরিচিতি, সাধিতে মনের সাধ, এসএম সুলতান, আমাদের বাউল কবি লালন শাহ্ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ইতিপূর্বে তিনি কণ্ঠশীলন পদক, সুকান্ত পদক, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান পদক, বিবেকানন্দ পদক, মনোজ বসু স্মৃতি পদক সহ দেশ-বিদেশে অনেক পুরষ্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। খসরু পারভেজ ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ২৫ ফেব্র“য়ারি যশোর জেলার কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি সংলগ্ন শেখপুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম খন্দকার মকবুল আহমেদ, মাতা লুৎফুন্নেছা লতা। তিনি মধুসূদন স্মারক সংস্থা মধুসূদন একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। বর্তমানে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড কেশবপুর শাখায় কর্মরত। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কবির জন্মবার্ষিকী ও মধুমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আবু সায়েদ মঞ্জুর আলম জানান, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলে মধুমেলায় লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটেছে। দর্শনার্থীরা মেলার মাঠে সার্কাস, মৃত্যুকুপে মোটরসাইকেল চালানো দেখা এবং চড়েছেন নাগরদোলায়। মেলার মাঠের স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিলো প্রচুর। সার্বিক আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সচেষ্ট ছিলেন। তিনি আরো জানান, মধুমঞ্চে আলোচনা অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধুসূদনের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে যে ধরনের বক্তব্য বেরিয়ে আসছে তাতে বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জলিল জানান, মেলার মাঠের পরিবেশ শান্তি পুর্ণ রাখতে সর্বাত্মক সর্তকতা নেয়া হয়েছে। এবারের মধু মেলায় কপোতা অববাহিকার অতিবর্ষণজণিত সৃষ্ট বন্যায় সর্বস্বহারা মানুষের আশা আকাঙ্খার কোন প্রতিফলন ঘটেনি। এখানকার মানুষের প্রাণের দাবি ছিলো মধুমেলার উদ্বোধন করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তিনিই কপোতা নদ সংস্কার, খনন এবং সাগরদাঁড়িতে মধু কবির নামে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করবেন। তবে কেশবপুরবাসী তথা মধুভক্তরা এতোটুকু আশা নিয়ে ফিরেছেন যে, যেহেতু যশোর-৬ কেশবপুর আসনের এমপি সাবেক শিামন্ত্রী এ এস এইচকে সাদেকের সহধর্মিনী ইসমাত আরা সাদেক দেশের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ,সেহেতু তিনি কেশবপুরের মানুষের কপোতা নদের দূর্ভোগসহ প্রাণের দাবি সাগরদাঁড়িতে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় স্মরণীয় ভুমিকা রাখবেন। লাখো প্রাণের উচ্ছাসে দেশের দণি পশ্চিামাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মধু জন্মবার্ষিকী ও সপ্তাহব্যাপী মধু মেলা গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে।

SHARE