বঙ্গবন্ধুর প্রেরণা নিয়ে টিউলিপের চোখ বহুদূর

tulip
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু তার রাজনীতিতে আসার প্রেরণা, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছেন।

নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে বৃহস্পতিবার লন্ডনের ওয়েস্ট হ্যামে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে লড়বেন টিউলিপ।

তহবিল সংগ্রহের ওই প্রচারাভিযানে টিউলিপের পে ছিলেন টোটিংয়ের এমপি সাদিক খান, বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো এমপি রুশনারা আলী, ডারউইচ অ্যন্ড ওয়েস্ট নরউডের এমপি ড্যাম টেসা জোয়েল, ইস্ট হ্যামের এমপি স্টিফান টিমস, ডায়েন অ্যাবট ও কিয়ের স্টার্নার মতো রাজনীতিকরা।

দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম এবং আন্তরিকতার জন্য তারা সবাই টিউলিপ সিদ্দিকের প্রশংসা করেন।

টিউলিপ বলেন, হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে লেবার পার্টিকে বিজয়ী করতে তার সামনে এখন অনেক কাজ।

অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, কনজারভেটিভরা জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা থেকে সরে গেছে, ‘ধ্বংস’ করে দিয়েছে শিা ব্যবস্থা। প্রতিবন্ধীরাও তাদের কাছে নিরাপদ নয়।

আবেগঘন বক্তব্যে নিজের বাবা-মায়ের লন্ডনে আসার কথাও স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি।

টিউলিপ বলেন, “আজ আমি যেখান থেকে নির্বাচনে লড়ছি, সেই এলাকায় ৩৫ বছর আগে আমার বাবা-মায়ের বিয়ে হয়েছিল। আমি যে অবস্থানে আছি তা আপনাদের কারণে। আপনাদের সহযোগিতা পেলে এই আসনে আমরা বিজয়ী হবো।”

পাঁচ শতাধিক অতিথির উপস্থিত সঙ্গে মা শেখ রেহানা, বোন এবং স্বামী ছাড়াও শ্বশুরকূলের আত্মীয়রাও এ অনুষ্ঠানে ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী।

হলভর্তি অতিথির সামনে নিজের রাজনীতিতে আসার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন টিউলিপ।

তিনি বলেন, “মানুষ মাঝে মধ্যেই জানতে চায়- আমি কেন রাজনীতিতে এসেছি, আমি কেন রাজনীতিবিদ হতে চাই, আমার মূল্যবোধের উৎপত্তি কোথায়? আমি তাদের বলি- আমি যে পরিবারে জন্ম নিয়েছি সেখান থেকেই আমার মূল্যবোধ পেয়েছি। আমার নানা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন।

লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটিতে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য দুজনকে হারিয়ে প্রার্থিতা নিশ্চিত করেন টিউলিপ। ২০১০ সাল থেকে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের সদস্য। এই কাউন্সিলে তিনিই প্রথম বাঙালি নারী।

হ্যাম্পস্টেড আসনে লেবার পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে ৩১ বছর বয়সী টিউলিপের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ক্যামডেনের আরেক কাউন্সিলর স্যালি গিমসন ও হ্যাকনি বারার ডেপুটি মেয়র সোফি লিন্ডেন। তিনজনের মধ্য থেকে আগামী নির্বাচনের প্রার্থী নির্বাচিত করতে ভোট দেন ওই আসনে লেবার পার্টির প্রায় ৯০০ সদস্য। ভোটের ফলাফলে রায় আসে বাংলাদেশের রাজনীতিক পরিবারের সদস্যের প।ে

হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে বর্তমান এমপি লেবার পার্টির গ্লেন্ডা জ্যাকসন। খ্যাতিমান এই অভিনেত্রী বয়সের কারণে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ায় নতুন প্রার্থী হিসাবে টিউলিপকে বেছে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের বর্তমান বিরোধী দল।

২০১০ সালে দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে লেবার দলের প্রধান এড মিলিব্যান্ডের পে কাজ করেছিলেন টিউলিপ।

SHARE