ক্ষমতা ফিরে পেলো দুদক

head
বাংলানিউজ ॥
ক্ষমতা খর্ব হওয়ার তিনমাসের মধ্যেই স্বাধীনতা ফিরে পেলো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটিকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ায় আদালতের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং দুদক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের সংশোধনী ৩২ (ক) ধারা বাতিল বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ রায়ের কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশিট দিতে দুদককে সরকারের কাছ থেকে আর অনুমোদন নিতে হবে না।

এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদের একটি বিলের মাধ্যমে ‘কার্যত পঙ্গু’ হয়ে পড়ে দুর্নীতি বিরোধী এ স্বাধীন সংস্থাটি।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে এমন বিধান রেখে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন বিল ২০১৩’ পাস হয়।। এ বিল পাস হওয়ার পরই দাতা সংস্থাসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে বলা হয়, এ আইনের মাধ্যমে দুদকের স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছে। পাশাপাশি বিলকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করা হয় খোদ দুদকের পক্ষ থেকেই।

অবশেষে বৃহস্পতিবার বহুল আলোচিত আইনটির সংশোধনী ৩২ (ক) ধারা বাতিল বলে রায় দিলো হাইকোর্ট।

এ রায়ের কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশিট দিতে দুদককে সরকারের কাছ থেকে আর অনুমোদন নিতে হবে না। স্বাধীনভাবেই দুদক এখন থেকে মামলা ও চার্জশিট দিতে পারবে।

হাইকোর্টের রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, রায়ের প্রতি আমরা সন্তুষ্ট ও শ্রদ্ধাশীল। এখন দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করলেই হয়। আইনগতভাবে যেহেতু আর কোনো বাধা নেই তাই দুদক এখন প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিলো দুদককে শক্তিশালী করা। শেষ সময়ে এসে তারা এ সাংবিধানিক সংস্থাটির ক্ষমতা খর্ব করেছে। এখন হাইকোর্ট দুদককে তার আগের ক্ষমতা দিয়েছে। আমরা আশা করবো সরকার যেনো এটাতে কোনো প্রভাব না দেখায়, দুদকও যেনো তাদের সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করে।

দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা জয়ী হয়েছি। কাজের গতিশীলতায় এখন আর বাধা থাকলো না। কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে আমাদের আর কোনো বাধা নেই। এতে আমাদের কাজের গতি বাড়বে।

তিনি বলেন, আমরা আরেকটি জয় পেতে চাই। আর তা হচ্ছে একই বিলে দুদকের কর্মকর্তাদের শাস্তির ভয় দেখিয়ে যে আইন হয়েছে সেটির ব্যাপারে।

এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে কিংবা অনিশ্চিত তথ্য দিয়ে কোনো তদন্ত বা বিচার পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বনিম্ন ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রেও একই দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করবো এটাতেও আমরা জয়ী হবো।

SHARE