সাতক্ষীরায় ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও ১২৫ একর জমির দখল পাচ্ছেন না এক পরিবার

satkhira
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরায় ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১২৫ একর জমির দখল দিচ্ছে না প্রভাবশালী একটি মহল। তারা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া কাগজ সৃষ্টি করে জমি দখলে রাখার অপতৎপরতা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার পাইথলি গ্রামের মৃত সূর্যকান্ত রাহার ছেলে অসিত কুমার রাহা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অসিত কুমার রাহা বলেন, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের গুড়গুড়ি এবং বাউশুলি মৌজায় তার ১২৫ একর সম্পত্তি রয়েছে। এরমধ্যে গুড়গুড়ি মৌজায় ৪৮ একর এবং বাউশুলি মৌজায় ৭৭ একর সম্পত্তি। ১৯৮৪ সালে চিংড়ি চাষ শুরু হলে তিনি নিজে ওই জমিতে ঘের করে বাগদা চিংড়ির চাষ শুরু করেন। কিন্ত ভাইরাস জনিত কারনে ঘেরের ব্যবসা ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়ায় তিনি ওই জমি বুধহাটা গ্রামের আলহাজ্ব নুর মোহাম্মাদ মোল্যার ছেলে মঞ্জুরকে বাৎসরিক হারির বিনিময় ২০০৩ সালে থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের জন্য ডিডের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করেন। ইজারা দেয়ার পর থেকে প্রতিবছর টাকা নিতে তার অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। তিনি বলেন এই সম্পত্তির একটা বড় অংশ দেবত্ম সম্পত্তি হওয়ায় এ থেকে উপার্জিত বেশির ভাগ টাকা পূজা আর্চনা এবং ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা হয়। অসিত কুমার রাহা আরও বলেন, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ইজারার মেয়াদ শেষ হলে আমি নিজে ঘের করার জন্য মঞ্জুরুলের কাছে জমি ফেরত চাই। কিন্ত মঞ্জুরুল আমার জমিতে ঘের করতে দিবে না বলে নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করছে। বিশ্বস্থ সূত্রে জানতে পেরেছি সাবেক চেয়ারম্যান হাসেম ও তার ভাই মঞ্জুরুল গং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া কাগজ তৈরি করে তার সমূদয় জমি দখলে নেয়ার পায়তারা করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা এদেশে হিন্দু সম্প্রদায় সংখ্যালঘু। এলাকায় হাসেম গং এর আছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। প্রশাসন যদি আমাকে সাহায্য না করে তাহলে জমি উদ্ধার দূরে থাক আমাকে এ দেশ থেকে তাডিয়েই ছাড়বে তারা। তিনি অত্যাচারি ও ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সম্পতি উদ্ধারের জন্য প্রধান মন্ত্রী, স্বরাষ্ট মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

SHARE