খুলনার সুলতানা হামিদ আলী স্কুলে অনিয়ম নিয়মে পরিণত

oniom
খুলনা ব্যুরো॥ খুলনা মহানগরীর পিটিআই মোড় এলাকার সুলতানা হামিদ আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় নানা অনিয়ম, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নূরুন্নাহার বেগমের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শিক্ষককে স্থায়ী হিসেবে নিয়োগ, কোন শাখার অনুমোদন না থাকলেও এমপিওভূক্ত শিক্ষককে শাখায় দেখানো এবং বেতন হিসেবে স্কুল থেকে সর্বোচ্চ অর্থ গ্রহনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার এসব অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে দুদক ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষিকা অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে রাজী হননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এমন আশ্বাস মিলেছে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে।
অভিযোগে জানা গেছে, স্কুলের মূল স্ট্যাফিং প্যাটার্ণভূক্ত শূণ্যপদে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) পদে মনিরুজ্জামান আকুঞ্জী ২০০৪ সালের ১ জুলাই সুলতানা হামিদ আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। সর্বশেষ এমপিও কপিতেও তার নাম ৫নং ক্রমিকে রয়েছে। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নূরুন্নাহার বেগম সম্প্রতি এমপিও সীটে সুনির্দিষ্ট পদবী মুদ্রণের কপিতে তাকে প্যাটার্ণভূক্ত না করে ৬ষ্ঠ শ্রেনী ‘খ’ শাখার শিক্ষক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেন। আর বিধি বহির্ভূতভাবে স্কুলের সর্বশেষ নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষক (সমাজ বিজ্ঞান) শরীফুল ইসলামকে তার স্থলে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) পদে প্যাটার্ণভূক্ত দেখিয়েছেন। এভাবে সীট পূরণ করে তিনি জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিলে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক মনিরুজ্জামান আকুঞ্জী লিখিত আপত্তি দাখিল করেন। শিক্ষা অফিস থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জবাব না দিয়েই শিক্ষা অফিসকে পাশ কাটিয়ে ওই সীট অনুমোদনের জন্য সরাসরি শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করেন। স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষকই তার এ অনিয়মে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। অপরদিকে দুদুকে দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এ স্কুলে আদৌ কোন শাখার অনুমোদন নেই। কিন্তু প্রধান শিক্ষিকা কাগজ-কলমে শাখা দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ-বাণিজ্যের মাধ্যমে শাখা শিক্ষক হিসেবে একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা ও পঞ্চম শ্রেণীর মডেল টেষ্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিতে ভূয়া ভাউচারে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহন, বিশেষ করে পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফিসের নামে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকারি বই ফেরত নিয়ে বিক্রি, স্কুল থেকে মোবাইল বিল বাবদ অপ্রয়োজনীয় অর্থ গ্রহন, প্রকাশকদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নি¤œমানের সহায়ক বই কিনতে বাধ্য করা এবং তার পছন্দের কতিপয় শিক্ষককে নিয়ম বহির্ভূত ছুটিসহ বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ কশান মানির নামে তিনি ছাত্রী প্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা হারে গ্রহন করেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতিবাদ করলে ম্যানেজিং কমিটির চাপে পড়ে তিনি অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হন। এছাড়া ৭ম শ্রেনীর ছাত্রীদের বেতনের ৪৭ হাজার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ইন্টারন্যাল অডিটে চিহ্নিত হলেও তিনি তা স্কুল ফান্ডে জমা দেননি বলে সূত্র জানিয়েছে। অনুমোদন ছাড়াই শাখার নামে শিক্ষক নিয়োগ এবং অতিরিক্ত শিক্ষককে স্থায়ী হিসেবে প্যাটার্ণভূক্ত করার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) দিপক রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, সুলতানা হামিদ আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ডাবল শিপট বা শাখা’র কোন অনুমোদন নেই। কিন্তু প্রধান শিক্ষিকা কাগজপত্রে তা দেখিয়েছেন। আর অতিরিক্ত শিক্ষককে স্থায়ী হিসেবে প্যাটার্ণভূক্ত করাটিও নিয়ম বহির্ভূত হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি জবাব না দিয়ে সীট অনুমোদনে সরাসরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন। এ কারণে বিষয়টি তুলে ধরে মন্তব্য লিখে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা নূরুন্নাহার বেগম এ প্রতিবেদকের সাথে কোন কথা বলতে রাজী হননি। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সবকিছু জানেন বলে উল্লেখ করে তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। জেলা প্রশাসক আনিস মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

SHARE