ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডির বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

destiny
বাংলানিউজ ॥চার হাজার ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থ পাচার) অভিযোগে পৃথক দুটি মামলার চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কমিশনের নিয়মিত সভায় মামলা দু’টির চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়। ডেসটিনির চেয়ারম্যান, এমডি ওসাবেক সেনাপ্রধানসহ মোট ৪৪ জনকে চার্জশিটে আসামি করা হয়।

এর মধ্যে ৩২ নং মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে ১৯ জনের বিরুদ্ধে আর ৩৩ নং মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে। দুটি মামলায় একই ব্যক্তি একাধিকবার আসামি হওয়ায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৪।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, অতি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এমএলএম (বহুস্তরের বিপণন) ব্যবসা পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো- অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের বিভিন্ন প্যাকেজের শেয়ার দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন গ্রুপের পরিচালকেরা। ওই সব অর্থ ৩২টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করেছেন ডেসটিনির পরিচালকেরা।

যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন
অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে তারা হলেন- সাবেক সেনাপ্রধান ও ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ, ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন, তার স্ত্রী ফারাহ দীবা, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোফরানুল হক, পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন, সাঈদ-উর-রহমান, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, জমশেদ আরা চৌধুরী, ইরফান আহমেদ, শেখ তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসেন, আজাদ রহমান, আকবর হোসেন, শিরিন আক্তার, রফিকুল ইসলাম সরকার, মজিবুর রহমান, সুমন আলী খান, সাইদুল ইসলাম খান, আবুল কালাম আজাদ এবং ডায়মন্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম।

তদন্তে এই মামলায় নতুন করে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খান, এস এম আহসানুল কবির, এ এইচ এম আতাউর রহমান, গোলাম কিবরিয়া, মো. আতিকুর রহমান, খন্দকার বেনজীর আহমেদ, এ কে এম সফিউল্লাহ, শাহ আলম, দেলোয়ার হোসেন, বেস্ট এভিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান এম হায়দার উজ জামান, উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন, সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা কাজী ফজলুল করিম এবং সাবেক কর্মকর্তা মোল্লা আল আমীন। আত্মসাতের ঘটনায় সহযোগী হিসেবে আরও অভিযুক্ত হচ্ছেন- বনানীর ইসলাম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের শফিউল ইসলাম, বাগেরহাটের জিয়াউল হক মোল্লা, জেসমিন আক্তার, ফিরোজ আলম, শাহাজাদপুরের সেতু এন্টারপ্রাইজের সিকদার কবিরুল ইসলাম, বনানীর মমতাজ এন্টারপ্রাইজের ওমর ফারুক, ডিভেক রিয়েল এস্টেটের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, ডেসটিনি গ্রুপের কন্ট্রোলার সুনীল বরণ কর্মকার, ডেসটিনি-নিহাজ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস সহিদুজ্জামান, ডায়মন্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, ডেসটিনি এয়ার সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আকতার ও ডেসটিনি গ্রুপের অ্যাডভাইজার শফিকুল হক।

দুদকের উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদার এবং সহকারী পরিচালক মো. তৌফিক দীর্ঘ তদন্তের পর প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করেন। প্রতিবেদনে কমিশনের কাছে চার্জশিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন যাছাই-বাছাই করে চার্জশিটের অনুমোদন দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির (ডিএমসিএসএল) মামলায় আসামিরা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাড়ে আট লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ সময় ঋণ প্রদান, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, নতুন প্রতিষ্ঠান খোলার নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এক হাজার ৯০১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করা করে। সে অর্থ থেকেই আসামিরা লভ্যাংশ, সম্মানী ও বেতন-ভাতার নামে এক হাজার ৮৬১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরিয়ে নেন।

বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ যাদের বিরুদ্ধে
দুদক সূত্র জানায়, ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের মূলধন ৫০ কোটি টাকা থেকে পর্যায়ক্রমে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি এবং ২০টি শাখা খোলার ক্ষেত্রে দায়িত্ব অবহেলার কারণে সরকারের ১০ সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তারা হলেন, বর্তমানে জামালপুরে জেলা সমবায় কর্মকর্তা আবদুল জব্বার, সিরাজগঞ্জের জেলা সমবায় কর্মকর্তা কাজী মেজবাহ উদ্দিন, দোহারে কর্মরত এইচ এম সহিদ উজ জামান, ঢাকার জেলা সমবায় কর্মকর্তা মুহাম্মদ গালীব খান, সমবায় অধিদফতরের অতিরিক্ত নিবন্ধক ইকবাল হোসেন ও সাইদুজ্জামান, যুগ্ম নিবন্ধক মাহবুবুর রহমান, উপনিবন্ধক ফজলুল হক, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব প্রতুল কুমার সাহা এবং কাজী নজরুল ইসলাম।

দুদকের অপর মামলাটি ছিল ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেড (ডিটিপিএল) সংক্রান্ত। বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা জানায়, ২০০৬ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে গাছ বিক্রির নামে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের (ডিটিপিএল) জন্য দুই হাজার ৩৩৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এ অর্থ থেকে দুই হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২২৭ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এ অর্থ বেতন-ভাতা, সম্মানী, লভ্যাংশ, বিশেষ ভাতা বা কমিশনের আকারে আত্মসাৎ বা নিজ ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল।

ডেসটিনির চেয়ারম্যান-এমডি, সাবেক সেনা প্রধানসহ অভিযুক্ত ৪৪

শেয়ার