কেজরিওয়াল স্বৈরশাসক!

binni
বাংলানিউজ ॥
ক্ষমতায় বসার এক মাস পেরুতে না পেরুতেই ভাঙনের সুর বেঁজে উঠছে আম আদমি পার্টিতে (এএপি)। দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে একক ক্ষমতা চর্চার অভিযোগ তুলেছেন দলটির সদস্য বিনোদ কুমার বিন্নি। বিন্নির অভিযোগ, এএপির কথা আর কাজের মধ্যে মিল থাকছে না।
বিনোদ কুমার বিন্নি বলেছেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখছে না এএপি। সাবেক কংগ্রেসম্যান বিন্নির অভিযোগ, সরকারি সুযোগ-সুবিধা যেমন গাড়ি-বিলাসবহুল বাড়ি নেওয়ার রীতি বন্ধ করার প্রত্যয় থেকে পিছু হটেছে কেজরিওয়াল ও তার মন্ত্রিসভা।
এএপি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়ে বিন্নি বলেছেন, নিজের (কেজরিওয়াল) মতে কোনো কিছু না চললেও চিৎকার-চেঁচামেচি করেন ও রাগান্বিত হন।
গত ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো দিল্লির রাজ্যসভা নির্বাচনে অংশ নেয় এএপি। নির্বাচন ২৮ আসনে জয় পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও কংগ্রেসের হাত ধরে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় এএপি। এএপির ২৮ রাজ্যসভা সদস্যের একজন বিনোদ কুমার বিন্নি।
তিনি এএপির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগগুলো হচ্ছে-
১.এএপির মন্ত্রীরা বলেছিলেন, তারা লাল বাতিওয়ালা গাড়ি ব্যবহার করবেন না। কিন্তু তারা সবাই ভিআইপি নম্বরওয়ালা গাড়ি ব্যবহার করছেন।
২.এএপি গণতান্ত্রিকভাবে কাজ করছে না। শুধু ৫ জনই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যদি কেউ অরবিন্দের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন তাহলে সে রাগান্বিত হন। সে একজন স্বৈরশাসক। যদি কেউ তার বিরুদ্ধে বলে তাহলে সে চিৎকার শুরু করেন।
৩. দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে এক ডেনিস নারী গণধর্ষণের শিকার হয়। কিন্তু এএপি সরকারের কেউ বিবৃতি দেয়নি। যদি অন্য কোনো দল ক্ষমতায় থাকত তাহলে এএপি এটা নিয়ে শহরে বিক্ষোভ করত। নারীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে এএপির লজ্জা পাওয়া উচিত। নারীদের অধিকতর নিরাপত্তা দিতে দলটির নেতারা কোনোকিছুই করছে না, এমনকি তারা এটা নিয়ে এখনও আলোচনা শুরু করেনি।
৪. নির্বাচনের টিকিট ন্যায্যভাবে দেওয়া হয়নি। সই নেওয়া ও উত্তম প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার ভনিতা করা হয়েছে। কিন্তু আসলে এটি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা। যদি এই ব্যক্তি (কেজরিওয়াল) দলের ভেতর দুর্নীতির বিরুদ্ধে না লড়ে তিনি কীভাবে দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়বেন?
৫. এএপি তার নির্বাচন পূর্ব প্রতিশ্রুতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আমরা বলেছিলাম বিদ্যুতের দাম হবে সুলভ, প্রতি বাড়িতে প্রতিদিন ৭০০ লিটার পানি বিনামূল্যে দেওয়া হবে। কিন্তু এর ভেতরে খরচ রয়েছে। কিন্তু এর বেশি ব্যবহারকারী পরিবারগুলোকে শুধু অতিরিক্ত পরিমাণের দাম দিলে হবে না, অতিরিক্ত হারে দাম দিতে হবে।
তবে এএপি বলেছে, লোকসভা নির্বাচনের টিকিট না পাওয়ায় এসব ভুয়া অভিযোগ তুলেছেন বিন্নি। দলীয় নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিন্নির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এএপি।
দল ও দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিন্নির অভিযোগের পরপরেই এএপি নেতা যোগেন্দ্র যাদব মুখ খোলেন। তিনি বলেছেন, ‘বিন্নি এমনভাবে কথা বলেছেন, যেন তিনি বিজেপির বিবৃতি পড়ছেন। তিনি যা পড়েছেন তা ছিল বিজেপির লেখা।’
তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে অশৃঙ্খলার কোনো সুযোগ নেই। শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই।’

শেয়ার