মাগুরায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন॥ মার খেয়েও গোপন করার চেষ্টা

magura
মাগুরা প্রতিনিধি॥ মাগুরায় বিরোধী দলের আন্দোলনকে সামনে রেখে চলছে পুলিশি ধরপাকড়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক এ আটকের ক্ষেত্রে শুধু সংখ্যাটি প্রকাশ করলেও অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিষয়ে মিডিয়ার কাছে সঠিক কোন তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ফলে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা বিভ্রান্তি ও রহস্যের জন্ম দিচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, নাশকতার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামিরা পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা রেখে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে একদিকে তাদের যেমন হয়রাণি করা হচ্ছে, অন্যদিকে উপর মহলে আটককৃতদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যা প্রচার করে বাহবা নেবার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সদর উপজেলার চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রোস্তম আলী জানান, শনিবার রাতে চাপড়া গ্রাম থেকে ১১ জন যুবককে ধরে আনে সদর থানা পুলিশ। ওই রাতে তারা ক’বন্ধু মিলে বনভোজন করছিলেন। যাদের সকলেই সাধারণ ছাত্র। তারা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। সাংবাদিকরা এদিন রাজনৈতিক আটকের সংখ্যা জানতে চাইলে, সদর থানা পুলিশ ও পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে ওই ১১ জনসহ মোট ১৩ জন আটক বলে জানানো হয়। যা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়ও প্রচারিত হয়েছে।
একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, হরতাল অবরোধের নামে মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী ও শালিখার সীমাখালী এলাকায় হাতে গোনা চিহ্নিত কিছু দুর্বৃত্ত গাড়ী ভাংচুর-অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন নাশকতা ঘটিয়ে আসছে। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণ বা দোষিদের আটকের বিষয়ে পুলিশের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। উপরোন্ত সাধারণ মানুষদের ধরে আনা হচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, গতকাল সোমবার-পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে জেলায় রাজনৈতিক আটকের সংখ্যা ৬ জানানো হলেও সদর থানা থেকে কোন আটক নেই বলে জানানো হয়। আবার গত সপ্তাহে শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকায় রাতের বেলা পুলিশের গাড়িতে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়। মাগুরা সদর হাসপাতালে ওই পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পুলিশ বিষয়টি পুরোপুরি চেপে যায়। একইভাবে একই সময়ে শহরের পারনান্দুয়ালী তিন নম্বর ব্রিজ এলাকায় পিকেটারদের ছোড়া ইটের আঘাতে নজরুল নামে এক পিকআপ চালক গুরুতর জখম হন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪দিন পর তিনি মারা যান। এর আগে শহরতলীর শিমুলিয়া এলাকায় হ্যান্ডকাপ নিয়ে ছাত্রদল-যুবদলের ৩ নেতা-কর্মী পালিয়ে গেলেও পুলিশ বিষয়টি একেবারেই চেপে যায়। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলেও সঠিক কোন তথ্য দেয়া হয়নি। এমনকি ওই ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার দায়ে কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
মাগুরা পুলিশের এমন আচরণ সাংবাদিকদের দায়িত্বপালনে যেমন অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে তেমনি ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে বিভ্রান্তিরও সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে মাগুরা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ভবিষ্যতে সঠিক তথ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি।

শেয়ার