ভালুকঘর মাধ্যমিক বিদ্যালয়॥ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি জালিয়াতিসহ ৫ গুরুতর অভিযোগ

school
নিজস্ব প্রতিদেক ॥ বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহারের ৫ মাসের মাথায় আবারো চরম বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন কেশবপুরের ভালুঘর মাধ্যকি বিদ্যালয়ের প্রথান শিক্ষক আবদুল হামিদ। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফিস আদায় ও শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি জালজালিয়াতিসহ ৫টি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক এবং যশোর মাধ্যকি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে প্রথান শিক্ষকক আব্দুল হামিদ অবৈধ পন্থায় স্বপদে ফিরে গিয়ে পুর্বের সেই ভয়ংকর মুর্তি ধারণ করেছেন। তার ঘুষ দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক মহল। ইতিমধ্যে তিনি জে এসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন। বোর্ড থেকে এবার জেএসসি’র ফিস নির্ধারন করা হয় সাড়ে মাত্র ৮০ টাকা। কেন্দ্র ফিসসহ অন্যান্য মোট খরচ আরো ২২০। সেখানে তিনি ২২শ’ থেকে ২৫শ’ টাকা পর্যন্ত ফিস আদায় করেছেন। এবছর ওই বিদ্যালয থেকে ৪৫ জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অভিবাবক সামাদ মোল্য জানান তার কাছ খেকে নেয়া হয়েছে ২২শ’ টাকা। অনুরূপ রনজিত ঘোষের কাছ থেকে ২৫শ’ টাকা, আব্দর রশিদ, সালাম গাজী, রাজ্জাক মোড়ল, আনন্দ দাস এবং আতিয়ার সরদারের কাছ থেকে ২২শ’ করে টাকা নেয়া হয়েছে। এস এসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনুরূপ ভাবে নির্ধরিত ফিস অপেক্ষা ২/৩ গুন বেশী টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষা অধিদপ্তরের জাল চিঠি ইস্যু করে শিক্ষক হয়রানী এবং জাল সনদে নিজের জামাইয়ের ভাইকে লইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি তার (লাইব্রেরিয়ান) জাল কাগজ পত্র দিয়ে এমপিও ভুক্তির সুপারিশ পাঠানো হয়েছে শিক্ষা ভবনে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ১৬ টি দোকান ঘর ভাড়ার টাকা স্কুল ফান্ডে জমা না দিয়ে আতœসাতের অভিযোগ রয়েছে।এসব অপকর্মের পতিবাদ করায় তিনি শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে হয়রানী করছেন। ইতিমধ্যে তিনি ৫ জন সহকারী শিক্ষককে শোকজ নোটিশ দিয়ে তার স্বেচ্চাচারিতার বর্হিপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নতুন নিয়োগকৃত কয়েক জন শিক্ষককে চাপের মুখে ফেলে ঘুষ গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পূর্বের ৪টি নির্বাচিত কমিটি তাকে এ পর্যন্ত ৯ বার সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। সর্বশেষ ২০১২ সালে বিগত নির্বাচিত কমিটি ৭ টি সুনিদ্দিষ্ট অভিযোগে তাকে সাময়িক বরথাস্ত করে এবং কেন তাকে স্থায়ী বহিস্কার করা হবেনা এইমর্মে কারণ দর্শাানো নোটিশ দেয়। কিন্তু তিনি জবাব না দিয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলা চলমান অবস্থায় বিধি বর্হিভুতভাবে গত জুন মাসে তার সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের আদেশ দেয় বোর্ড। প্রাক্তন কমিটির অভিাবক সদস্য আব্দুল খালেক সানা জানান, জালজালিযাতি এবং ঘুষের বিনিময় এবং বোর্ডকে মামলার কথা গোপন রেখে বহিস্কার প্রত্যাহারের চিঠি নেন আব্দূল হামিদ। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তও হয়নি। বিষয়টি জানার পর তার বহিস্কার প্রত্যাহারের চিঠি বাতিলের দাবি জানিয়ে শিক্ষা বোর্ডসহ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি অবিলম্বে এর প্রতিফলন ঘটবে। তিনি বলেন দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল। সেই নিরিখে অভিভাবকরা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে।

শেয়ার