পুলিশের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ ॥ আহত ১০ শৈলকুপায় দু’টি ব্যাংকসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করেছে অবরোধকারীরা

Shailkupa
শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৩ পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। সোমবার সকালে বিএনপির মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মিছিলের সময় দুটি ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে অবরোধকারীরা। টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। অতর্কিত হামলায় ব্যবসায়ীরা আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়ে।
একালাবাসী ও পুলিশ জানায়, সকাল ৮টার দিকে অবরোধের সমর্থনে বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি কবিরপুর মোড়ে আসলে পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয়। বাধা পেয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। হামলায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় স্বল্পসংখ্যক পুলিশ পিছু হাটতে বাধ্য হয়। সে সময় অবরোধকারীরা কবিরপুর মোড়ে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক, কর্মস্থান ব্যাংক, প্রিয়াংকা হোটেল এ্যান্ড রেষ্টুরেন্ট, সুমন সুজন হোটেল এ্যান্ড রেষ্টুরেন্ট ও একটি মুদি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পরে পুলিশ ৫ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৭ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ কর্মী সমর্থক আহত হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ১৮ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতার ঘটনা ঘটলেও শৈলকুপা শহর সে তুলনায় ছিল অনেকটা শান্ত। হঠাৎ করে অবরোধের নামে বিএনপির এ ধরনের তান্ডব এলাকার মানুষদের আতংকিত করে তুলেছে। মিছিল করে অবরোধের নামে দোকান পাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের ঘটনা হালকাভাবে নিচ্ছে না এলাকার লোকজন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনকে আরো সর্তক থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শৈলকুপা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে বিএনপি একটি মিছিল বের করে কবিরপুর মোড়ে ভাংচুর শুরু করে। তাদেরকে বাধা দিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। বাধ্য হয়ে পুলিশ ৭ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ৫ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। অবরোধকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে তাদের ৩ পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছে বলে ওসি জানান।

শেয়ার