ফিফা ধন্যবাদ দিয়েছে বাংলাদেশকে

murshedi
বাংলানিউজ ॥
সালাম মুর্শেদী পেশায় একজন তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী এবং বিজেএমই’র সাবেক সভাপতি। কিন্তু সবার উপরে তার পরিচিতি একসময়ের খ্যাতনামা ফুটবলার হিসেবে। মাঠ ছাড়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্যের ধারেকাছে থাকলেও প্রত্যক্ষভাবে তিনি আছেন ফুটবলের সঙ্গে। দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে চেষ্টার কমতি নেই। এমনকি ফুটবল ভক্তদের আকাঙ্ক্ষা পূরণেও সক্রিয় তিনি। যার প্রমাণ দিলেন ফিফা বিশ্বকাপের আসল ট্রফি ট্যুরের আয়োজন করে। তিনদিন ঢাকা ঘুরে গেল ট্রফিটি। আর এই মুহূর্তটিই মুর্শেদীর জীবনের সবচেয়ে সেরা। সেটা তিনি উত্সর্গ করলেন তার মা-বাবাকে। ফিফা ট্রফি ট্যুর শেষে সার্বিক দিক নিয়ে স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট সোহানুজ্জামান খান নয়নকে একান্ত সাক্ষাত্কার দিলেন এই আয়োজনের প্রধান সালাম মুর্শেদী…..
বাংলানিউজ: দেশের মাটিতে কেমন দেখলেন ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফি?
সালাম মুর্শেদী: বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশে, এটা একটি বিশাল ব্যাপার। সত্যিকার অর্থে এটা স্বপ্নকেও হার মানায়। স্বাভাবিকভাবে আর সকল মানুষের মত আমিও খুবই আনন্দিত। পুরো সময়টা অনেক উপভোগ করেছি। এটা বিশাল গৌরবের ব্যাপার। ব্যক্তিগত, সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও যেমনই, তেমনই দেশের জন্য খুব গৌরবের। জিলেটের তত্বাবধায়নে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা এসেছিল। কিন্তু এবার কোকাকোলার আয়োজনে সত্যিকার ট্রফি বাংলাদেশে আসায় আমরা খুবই আনন্দিত।
বাংলানিউজ: আয়োজক কমিটির প্রধান হিসেবে এই ট্রফি ট্যুর কতটা সফল মনে করেন?
সালাম মুর্শেদী: আয়োজক হিসেবে কতটা সফল সেটা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। এই আয়োজনকে সফল করার জন্য পুরো কমিটি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। ট্রফিটি এমন সময় এসেছে যখন দেশের রাজনৈতিক অবস্থায় ভিন্ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমরা নিরাপত্তার উপর খুবই জোর দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন, কোকাকোলা, রেডিসনের নিরাপত্তাকর্মী এবং গ্রুপ ফোর অনেক কাজ করেছে। আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় দর্শকের চাহিদা অনেক বেশি ছিল। কিছু মিডিয়ার সরাসরি প্রচারের কারণে দর্শক চাহিদা বেড়ে যায়। শতভাগ সফল হতো যদি বাংলাদেশের ফুটবল পাগল সকল দর্শককে ট্রফিটা দেখাতে পারতাম। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ট্রফি আবার এলে অনেক বড় পরিসরে আয়োজন করব।
বাংলানিউজ: ভিশন টোয়েন্টি-টোয়েন্টির পথে এই ট্রফি ট্যুর কতটা সহায়তা করবে?
সালাম মুর্শেদী: অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা ভিশন টোয়েন্টি-টোয়েন্টি সামনে রেখে কাজ করছি। এই ট্রফি ট্যুর খেলোয়াড়দের আরো মানসিকভাবে চাঙ্গা করবে। অভিবাবকরা তাদের সন্তানদেরকে খেলাধুলায় আরো উৎসাহিত করবে।
বাংলানিউজ: হঠাৎ করে ভেন্যু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ফিফা বা কোকাকোলার সঙ্গে আয়োজক কমিটির সমন্বয়ের কোনো অভাব ছিল কিনা?
সালাম মুর্শেদী: ফিফা বা কোকাকোলার সঙ্গে সমন্বয়ের কোনো অভাব ছিল না। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ফিফা খুবই চিন্তিত ছিল। সমন্বয়ের অভাব থাকলে আমরা স্টেডিয়ামের সাজসজ্জার পেছনে এতো অর্থ ব্যয় করতাম না। মূলত ফিফা খুবই সাবধানি ছিলো বলেই ভেন্যু পরিবর্তন করতে হয়েছে।
বাংলানিউজ: হাঠৎ ভেন্যু পরিবর্তন দর্শদের উপর বিশেষ কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে থাকলে আরো সুন্দর হতে পারত নিশ্চয়?
সালাম মুর্শেদী: ভেন্যু পরিবর্তনে দর্শকদের উপর খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। এখন ফুটবলের মৌসুম যেহেতু। মাত্রই ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শকরা ফুটবল মাঠেই ছিল। সামনে আরো বেশ কিছু টুর্নামেন্ট রয়েছে। ফিফার কারণেই মূলত ভেন্যু পরিবর্তন হয়েছে। মূলত নিরাপত্তার কারণেই রেডিসন হোটেলে ট্রফি আনা হয়েছে। কারণ আমাদের টিকিট সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫ হাজার।
বাংলানিউজ: জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনাকে কীভাবে দেখছেন?
সালাম মুর্শেদী: জাতীয় দলের খেলোয়াড়দেরকে ফিফা, কোকাকোলা ও বাফুফেসহ সংবাদমাধ্যম সবচেয়ে বেশি প্রধান্য দিয়েছে। বাংলাদেশের সকল ইলেক্ট্রনিক্স এবং প্রিন্ট মিডিয়া তাদের নিয়ে সংবাদ প্রচার করেছে। আসলে খেলোয়াড়রা আসতে দেরী করেছিল। তাদের একসঙ্গে আসার কথা থাকলেও তারা তিন ভাগে এসেছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ট্রফি দেখার সময় প্রায় ৪৫ মিনিট ট্রফি দেখানো বন্ধ রাখা হয়েছিল। যে খেলোয়াড়ের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল সে ব্যাপারটি পুরোটাই ছিল ভুল বোঝাবুঝির কারণে। এবং ওই খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা থাকায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তিতে নিরাপত্তা কর্মীরা খেলোয়াড়দের কাছে দু:খ প্রকাশ করে। এরপর যথেষ্ট সম্মানের সঙ্গে তাদেরকে ট্রফি দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল।
বাংলানিউজ: তিন দিনের বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর শেষে ফিফার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
সালাম মুশের্দী: সত্যিকার অর্থে ফিফা একটু চিন্তিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ফিফা কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে ধন্যবাদ দিয়েছে। আসলে সবার প্রচেষ্টায় এই আয়োজন সফল করতে পেরেছি।
বাংলানিউজ: পরবর্তীতে ফুটবল নিয়ে বিশেষ কী পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করবেন?
সালাম মুর্শেদী: আমরা ২০১৪ সালের জুনকে টার্গেট করেছি। সামনে যতগুলো টুর্নামেন্ট আছে সবগুলো আয়োজন করব। প্রধান কাজই হবে ফুটবলকে মাঠে রাখা। ফুটবল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে অনেক কাজ করব। সিলেট একাডেমি হাতে পেয়ে গেলে খেলোয়াড় তৈরিতে অনেক সুবিধা হবে। সামনে আমরা পাইওনিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, সুপার কাপ, প্রফেশনাল ফুটবল লিগ, স্কুল ফুটবল সবই মাঠে রাখব। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্কুল ফুটবল নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আমরা স্কুল ফুটবল থেকে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করে আনতে পারব। ২০১১ সালে স্কুল ফুটবলে ৪,৮০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। আশাকরি এবার আরও বেশি স্কুল অংশগ্রহণ করবে।

শেয়ার