রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হতে পারে, শঙ্কা গোয়েন্দাদের

goinda
বাংলানিউজ॥
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াত জোট রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গোয়েন্দারা। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এজন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন, জ্বালাও পোড়াও থেকে সরে এসে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা করতে পারে জামায়াত-শিবির।
অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে হুমকি হয়ে উঠতে পারে এমন ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতারের ওপর জোর দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন-র‌্যাব।
গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশনে রিটার্নিং অফিসার, ডিসি, এসপি ও মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রদত্ত বক্তব্যের আলোকে তৈরি প্রতিবেদন থেকে এসব আশঙ্কার কথা জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রতিবেদনটি সামনে রেখে নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করছে বলে নিশ্চিত করেছে সূত্র।
শুক্রবারের বৈঠকসূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা বলেছেন, জামায়াত-শিবির এখন জ্বালাও-পোড়াও থেকে সরে এসে কিছু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পরে। এজন্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
অন্যদিকে র‌্যাব মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান নির্বাচনকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেন, এদেরকে এখনই গ্রেপ্তার শুরু করা না হলে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে উঠতে পারে।
শুক্রবারের বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক জানান, সশস্ত্রবাহিনী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রস্তুত।
স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সশস্ত্রবাহিনী সবক’টি জেলায় নিয়োজিত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসারদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ঝুঁকিপুর্ণ এলাকায় নিয়োজিত থাকতে পারে।
র‌্যাব মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে র্যাব মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
ভোট গ্রহণের আগের দিন নির্বাচন কর্মকর্তারা এক সঙ্গে নির্বাচনী মালামাল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং সেখানে অবস্থান করবেন- এমন পরামর্শ দেন র‌্যাব প্রধান।
পুলিশের মহা পরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার জানান, ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে ২০০৮ সালকে ভিত্তি ধরে স্থানীয়ভাবে মোতায়েন করা দরকার।
যেখানে নির্বাচন হচ্ছে না, সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করলে সমস্যা হতে পারে মত দিয়ে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও হাওড় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়াতে হবে।
সড়কে গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তা সরাতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং বন বিভাগকে বাধ্যতামুলক কাজ করতে হবে এই মত দিয়ে এ বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনা চান হাসান মাহমুদ।
চট্টগ্রামের পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শকও বিদ্যুৎ বিভাগ, বন বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, প্রভৃতি সংস্থার কাজকে জরুরি সার্ভিস হিসাবে ঘোষণা করার অনুরোধ রাখেন।
অতিরিক্ত পুলিশ পরিদর্শক স্পেশাল ব্রাঞ্চ বৈঠকে জানান, ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। নির্বাচনী সময়ে রাস্তাঘাট কেটে ফেলা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা ও ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদানের ক্ষেত্রে সহিংসতা হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
আনসার ভিডিপি মহাপরিচালক বলেন, ভোটকেন্দ্রে মালামাল পরিবহনের নিরাপত্তা দিতে আনসারবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তবে পরিবহনকালে আনসারদের মাথায় নির্বাচনী মালামাল না দেয়ার অনুরোধ করেন।

শেয়ার