যশোর স্টুডেন্টস ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন॥ বৃত্তির নামে শুভংকরের ফাঁকি

jessore
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ দৈনিক সমাজের কথায় যশোর স্টুডেন্টস ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের বৃত্তি বাণিজ্যের সংবাদ পরিবেশনের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। শহরের কোচিং ব্যবসায়ীদের সাথে আতাত করে ওই সংগঠনটি বৃত্তি বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। বৃত্তির প্রদানের নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে প্রতারণা করে প্রতিবছর হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করছে সংগঠনটির কর্মকর্তারা।
অভিযোগ রয়েছে শহরের কোচিং ব্যবসায়ীদের লোভনীয় অফার দিয়ে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। এতে হাজার হাজার টাকা পকেটে যাচ্ছে সংগঠনটির পকেটে। আর কোচিং ব্যবসায়ী ও কতিপয় শিক্ষক বৃত্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের উৎসাহে এবছর সদর উপজেলার ১ হাজার ৮৩৬ শিক্ষার্থী বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চড়া মূল্যে বৃত্তির আবেদন ফরম ক্রয় করেছে। এতে কোচিং নির্ভর বৃত্তি বাণিজ্যে ঠকছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ৯৭০ টাকা প্রদান করা হবে। তবে গতকাল যশোর স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের একটি বৃত্তি প্রোসপ্টেস্ সংগ্রহ করে দেখা গেছে তারা সর্বোচ্চ বৃত্তি প্রদান করবে ১ হাজার ২০০ টাকা। তাদের প্রসপেক্টাস ঘেটে ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে গত বছরের বৃত্তির প্রদান প্রক্রিয়ার ঘাপলা ছিল । প্রতিবছর তারা বৃত্তি বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। তবে বিষয়ে প্রশাসনের কোন রকমের নজরদারি নেই। ফলে প্রতিবছর কোচিং ব্যবসায়ী, সুবিধাবাদী শিক্ষক এবং ওই সংগঠনটি ফুলে ফেপে উঠছে। আর প্রতারিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
বৃত্তির প্রসপেক্টাস অনুযায়ী ২০১২ সালে সংগঠনটি ৭টি শ্রেণীতে ৪টি ক্যাটাগরিতে ১৯৪ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করেছে। প্রসপেক্টাসের উল্লেখিত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বৃত্তির প্রদেয় অর্থের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে তাদের কর্মকাণ্ডে ঘাপলা রয়েছে। এবারের প্রসপেক্টাসে ট্যালেন্টপুলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ টাকা ও সর্বনি¤œ প্রতিষ্ঠান কোটায় ৫৭০ টাকা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সেই হিসেবে গত বছর ৪ টি ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও এবারের বৃত্তির হার বিশ্লেষণ করা হলো। দ্বিতীয় শ্রেণীতে ৪টি ক্যাটাগরিতে ৭টি শ্রেণীর ৭০ জন শিক্ষার্থীকে ৪৬ হাজার ৮০ টাকা প্রদান করা হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় শ্রেণীতে বৃত্তির ফরম বাবদ ৫৪৮ জন শিক্ষার্থীর কাছ ১৫০ টাকা হারে ৮২ হাজার ২’শ টাকা আদায় করা হয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণীতে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তিবাবদ প্রদান করা হয়েছিল ১৭ হাজার ১৩০ টাকা । এবছর এই শ্রেণীতে ফরম বাবদ ৩১১ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫০ টাকা হারে ৪৬ হাজার ৬৫০ টাকা আদায় হয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণীতে ২৪ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি বাবদ ১৭ হাজার ৬৪০ টাকা প্রদান করা হয়েছিল। এবছর এই শ্রেণীতে ২৯০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফি বাবদ ১৫০ টাকা হারে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা আদায় হয়েছে।
পঞ্চম শ্রেণীতে ২৯ জন শিক্ষার্র্থীকে ২২ হাজার ৮৩০ টাকা প্রদান করা হয়েছিল। এবার আবেদন ফরম বাবদ পঞ্চম শ্রেণীর ৩৪০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফি বাবদ ১৮০ টাকা হারে ৬১ হাজার ২০০ টাকা আদায় হয়েছে।
ষষ্ট শ্রেণীতে ২২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি বাবদ ১৯ হাজার ১৪০ টাকা প্রদান করা হয়েছিল। এবার ওই শ্রেণীতে ১৮৩ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৮০ টাকা হারে ফি বাবদ ৩২ হাজার ৯৪০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
৭ম শ্রেণীতে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে সর্বসাকূল্যে ১৩ হাজার ৩২০ টাকা বৃত্তি বাবদ প্রদান করা হয়েছিল। এবার ৭ম শ্রেণীতে বৃত্তি ফি বাবদ ৯৪ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা হারে ১৮ হাজার ৮০০ টাকা আদায় হয়েছে। এছাড়াও ৮ম শ্রেণীতে ৮জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি বাবদ ৮ হাজার ৬০০ টাকা প্রদান করা হয়েছিল। এবার এ শ্রেণীতে আবেদন ফর বাবদ ৭০জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা আদায় হয়েছে।
যশোর ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের এবছরের প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত হারে ২০১২ সালের মত ১৯৪ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করলে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৪০ টাকা ব্যয় হবে। তবে গতকালের প্রতিবেদনে ২০০ শিক্ষার্থীর মাথাপিছু ৯৭০ টাকা হারে ব্যয় ধরা হয়েছিল। সেই হিসেবে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। বৃত্তি প্রদানের নামে সংগঠনটি আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা বৃত্তির সংজ্ঞা পাল্টে ফেলেছে। মূলত কোচিং ব্যবসার প্রসারের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে। এবিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষে নেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জাহিদ হোসেন পনি’র সাথে টেলিফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

শেয়ার