জামায়াতকে ‘সন্ত্রাসী দল’ ঘোষণা করা উচিত

abul

বাংলানিউজ ॥
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতকে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে ঘোষণা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত কানাডিয়ান হাই কমিশনার হিথার ক্রুডেনের সাক্ষাৎ শেষে একথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারির পর আমি মন্ত্রিসভায় জামায়াতকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তাব দেবো। এরপর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলেই পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

নির্বাচনের পর পুলিশ আরও কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই সময় পুলিশ আরও কঠোর হবে। এখন কঠোর হতে পারছে না। কারণ, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হবে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়, আমি আগেও বলেছি।

বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে বিরোধী দল যা করছে, তা রাষ্ট্রদোহ। আমি বলবো, স্টেট (রাষ্ট্র) শত্রুতা।

প্রায় দুই মাসে হরতাল-অবরোধে দেশের অর্থনীতির যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ অবরোধ সফল করেছে বলে বিএনপি নেতারা দাবি করে থাকেন। কিন্তু এটা সত্য নয়। দেশের মানুষ অবরোধ-হরতাল চায় না।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়া, দেশের সেবা করা নয়। দেশসেবা তার লক্ষ্য হলে তিনি কখনোই এ ধরনের কর্মসূচি দিতেন না। আর আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া সহজ। এ কারণেই তিনি আন্দোলনকে বেছে নিয়েছেন।

এ ধরনের পরিস্থিতি বেশিদিন চলতে পারে না এবং চলতে দেওয়া উচিত নয় মন্তব্য করে মুহিত বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্যই সরকার এখনো এসব বিষয়ে নমনীয় রয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারির পর এক্ষেত্রে কঠোর হবে সরকার।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে হবে কিনা- জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্দলীয় সরকার মানে কতোগুলো অথর্ব লোকের টকশো’। সর্বদলীয় সরকারের অধীনেই সে নির্বাচন হবে।

কানাডিয়ান হাই কমিশনার বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তার সরকারের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

শেয়ার