গৃহকর্মীকে প্রতিশ্রুত বেতনেরও কম পান দেবযানী!

inter
বাংলানিউজ ॥
যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের সম্পর্কে বর্তমানে আলোচিত বিষয় হচ্ছে দেবযানী খোবরাগেড় ইস্যু। গৃহকর্মী সঙ্গীতা রিচার্ডসকে প্রতিশ্রুত বেতনের কম দেওয়ার অপরাধে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানীকে নিউইয়র্কে গ্রেফতারের ঘটনায় দু দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের দাবি, দেবযানী খোবরাগেড় গৃহকর্মী সঙ্গীতাকে সাড়ে চার হাজার মার্কিন ডলার মাসিক বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছেন। এ বেতন নিউইয়র্কে ন্যূনতম হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু দেবযানী সঙ্গীতাকে মাসে মাত্র ৫৭৩ ডলার দিতেন।
দেবযানী নিজের বেতনের চেয়ে সঙ্গীতাকে ৪শ মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন! দেবযানীর বেতন মাসে ৪ হাজার ১শ মার্কিন ডলার। ভারত সরকারই দেবযানী এ বেতনের কথা জানিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সঙ্গীতা রিচার্ডসকে মাসে ন্যূনতম সাড়ে ৪ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারত সরকার জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেবযানী নিজেই মাত্র ৪ হাজার ১শ মার্কিন ডলার বেতন পান।
২০১২ সালে সঙ্গীতাকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা দেবযানী। ৪২ বছর বয়সী সঙ্গীতার বাড়ি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঙ্গীতার স্বামী ফিলিপ নয়াদিল্লিতে মোজাম্বিক দূতাবাসের গাড়িচালক। সঙ্গীতার শ্বশুর মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। শাশুড়িও মার্কিন সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করেন।
সঙ্গীতাকে প্রতিশ্রুত বেতনের কম দেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দেবযানীকে গ্রেফতার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। ভারতের ডেপুটি কাউন্সেল জেনারেল দেবযানীকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিবস্ত্র করে তার শরীরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এবং মাদকাসক্তদের সঙ্গে হাজতে রাখা হয়।
দেবযানীকে হেনেস্তা করার প্রতিবাদে ভারত মার্কিন কূটনীতিকদের দেওয়া বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। এ ঘটনায় দোষ স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ভারত।

শেয়ার