সেই ট্রেনই কাইরা নিলো বাজানের পরাণ!

Tajul
বাংলানিউজ॥ চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে কৃষক তাজুলের সাহসীকতায় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া মেঘনা এক্সপ্রেসই কেড়ে নিলো তার বৃদ্ধ বাবা মহ্ববত আলীর (৯৫) প্রাণ। সেদিন ট্রেনে থাকা প্রায় ৫’শ যাত্রীর জীবন রক্ষা পেলেও রক্ষা পায়নি তাজুলের জন্মদাতার জীবন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের মৌতাবাড়ি এলাকায় মেঘনা এক্সপ্রেসে কাটা পড়ে মারা যান তাজুলের বাবা মহব্বত আলী।

তিনি শাহরাস্তি উপজেলার ঢসুয়া মিজি বাড়ির বাসিন্দা। তার ৪ ছেলে এক মেয়ে। তাজুল সবার বড়।

আফসোস আর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তাজুল বাংলানিউজকে বলেন, যেই ট্রেনরে দুর্ঘটনা থেইকা বাঁচাইলাম, হেই ট্রেনেই কাইরা নিলো আঁর বাজানের পরাণ। প্রথমে আমার বিশ্বাস অয়নাই। তয় নিজের চোখে যহন দেইখলাম, তহন আর….(কাঁদতে ছিলেন)।

অনেকক্ষণ পর কান্না থামিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রী আর হুলিশের (পুলিশ) কাছ থেইকা পাওয়া টাকা দিয়া দুইডা গাই গরু কিনছি। হত্তিদিন আঁই বাজানরে আধাশের দুধ দিয়া আইতাম। তায় বাজান আঁর আইজ সহালে নিজে নিজে আঁর বাড়িতে আইতেছিল। ডাকাইততা ট্রেন কাইরা নিলো আঁর বাজানের পরাণ। বাজানের আর দুধ খাওয়া অইব না বলেই আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তাজুল।

মহব্বত আলীর নাতি কামাল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, সকালে দাদা রেললাইনের পথ ধরে আমাদের বাড়িতে আসছিল। এসময় চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়লে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। দাদার দুটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। অনেক বয়স হওয়াতে কানে কম শুনতেন বলে জানান মহব্বতের নাতি কামাল।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বাংলানিউজকে জানান, সন্ধ্যায় লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ব্যাপারে জিআরপি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৮দলীয় জোটের ডাকা দ্বিতীয় দফা অবরোধের সময় অবরোধকারীরা চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের উয়ারুক এলাকায় রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে ফেলে। সেদিন প্রায় ৫শ’ যাত্রী বোঝাই মেঘনা এক্সপ্রেসকে রক্ষা করে কৃষক তাজুল। রক্ষাপায় সরকারের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ

শেয়ার