যশোরে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে দুই মাসে অর্ধকোটি টাকার সরকারি গাছ লুট ॥ জিলা পরিষদের ৩১ মামলায় ৩৭৬ আসামি অধিকাংশরাই জামায়াত বিএনপি’র কর্মী ॥ হাইকমান্ডের নির্দেশে বোমা সরঞ্জামসহ অস্ত্র কেনার কাজে ব্যয় করা হয়েছে সিংহভাগ অর্থ

treecut
সুনীল ঘোষ ॥ যশোরে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি গাছ লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। বিএনপি-জামায়াতের লাগাতার হরতাল অবরোধের দুই মাসে সরকারি সম্পদ লুটের এই মহোৎসব চলেছে। নজিরবিহীন এই লুটপাটের গাছ বিক্রির সিংহভাগ অর্থ বোমা সরঞ্জামসহ অস্ত্র কেনার কাজে ব্যয় হয়েছে। হাইকমান্ডের নির্দেশে দলের তৃণমুল নেতারা এই লুটপাটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে জিলা পরিষদের দায়ের করা মামলায় অধিকাংশ হোতা আসামী হয়ে আতœগোপন করেছেন। এদের বেশির ভাগ জামায়াত বিএনপি’র কর্মী।
জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের লাগাতার হরতাল ও অবরোধের গত দু’মাসে সড়ক-মহাসড়কে বেরিকেট সৃষ্টির নামে যশোরের ৬ উপজেলায় ছোট-বড় ৩৭৬টি সরকারি গাছ কেটে নেয় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে অতি প্রাচীন রোডরেন্ট্রি, শিশু, মেহগনি, বাবলা ও ডোবা। এসব ঘটনায় যশোর জিলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ থানায় ৩১টি মামলা করেছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বেশ কয়েকটি। ৩৭৬ জনকে মামলার আসামী হয়েছে। জিলা পরিষদের সার্ভেয়ার এমএ মঞ্জু জানান, হরতাল-অবরোধের মধ্যে প্রায় ৩২ লাখ টাকা দামের ৩৭৬টি গাছ লুট হয়েছে। দামি গাছগুলো রাতের অন্ধকারে কেটে বিক্রি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি স’মিলে এসব গাছ চেরাই করা হয়েছে। তবে দিনের বেলায় যেসব গাছ কেটে সড়কে অবরোধ করা হয়েছিল তার কিছুটা উদ্ধার করা গেছে। তিনি জানান, গাছ লুটের সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামী হয়ে অনেকে ফেরারি জীবন যাপন করছেন। কেউ কেউ মিমাংসার জন্য দৌঁড়-ঝাপ শুরু করেছেন। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বৃটিশামলের অধিকাংশ পুরনো গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। কমপক্ষে অর্ধকোটি টাকার গাছ রাতের আধারে লুট করা হয়েছে। জিলা পরিষদ জেনেও অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পায়নি। সুত্রের দাবি, তৃণমুল নেতাকর্মীদের আন্দোলনের মাঠে চাঙ্গা রাখতে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে সরকারি গাছ লুট এবং বিক্রির টাকায় প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে বোমা সরঞ্জামসহ ছোট ছোট অস্ত্র কিনে ক্যাডারদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তৃণমুল পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারা লুটপাটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সূত্র জানায়, মনিরাপুর রাজগঞ্জ, পুলেরহাট রাজগঞ্জ, মনিরামপুর টেকারহাট, রাজগঞ্জ-খদ্দেরঘাট, বাঘারপাড়ার পুনিহার সড়ক, বোমারকপুর, রামপুর, শাহাপুর, মশ্বিনগর, ঢাকুরিয়া-মনিরামপুর, দোদাড়িয়ামোড়, চালুরহাট, যশোর-মাগুরা ও সেকেন্দারপুর, চুড়ামনকাঠি চৌগাছা, চাঁচড়া-পালবাড়ি, যশার-বেনাপোল, দোরাস্তা-বাঘারপাড়া, বাকড়া-কলারোয়া, যশোর-খুলনা, রাজারহাট-চুকনগরসহ বিভিন্ন সড়কের গাছ প্রায় সাবাড় করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, হাইকমান্ড লুটের সব অর্থ আন্দোলনের রসদ কেনার নির্দেশ দিয়েছিল কিন্তু পুরোপুরীভাবে তা প্রতিপালিত হয়নি। লুটের অর্থ অনেকে পকেটস্থ করেছেন। এনিয়ে প্রায় এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুত্রটি জানায়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে লূটের গাছ উদ্ধারে দিশেহারা প্রশাসন শক্ত ভুমিকা রাখতে পারেনি। জিলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করতে সাহস পায়নি। যেকারণে কেউ কেউ পার পেয়ে যাচ্ছেন। সূত্র জানায়, চলমান আন্দোলনে তৃণমুল কর্মীদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তৃণমুল পর্যায়ে তার উত্তাপ ছড়িয়ে দিতে দলের হাইকমান্ড প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দিচ্ছে। এখনি এসব অস্ত্র উদ্ধারসহ ক্যাডারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে না পারলে সহিংসতা গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা সূত্রের।

শেয়ার