সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের নৃসংশতা ঠেকাতে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত॥ স্বস্তির নিঃশ্বাস

bnimg
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের নৃসংশতা ঠেকাতে পুলিশ র‌্যাব ও বিজিবি’র সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গবার রাতে জেলার বিভিন্নস্থানে যৌথবাহিনীর অভিযানে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি’র ৫ নেতা-কর্মী আটক হয়। তারা হলো কালিগঞ্জ থানার ফরিদপুরের সাব্বির আহম্মেদ সবুজ (২৮), আজিজুর রহমান (৬৩), আ.জলিল (৫৮), বাবর আলী মোড়ল (৫৫) ও বক্কর আলী মোড়ল (৩৮)। এরফলে অবরুদ্ধ সাতক্ষীরার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
সূত্র জানায়, ফ্রেব্রুয়ারি মাসের পর জামায়াত শিবির সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে গোটা জেলায় সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলে। এ সময়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হত্যা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে সাতক্ষীরাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। আওয়ামীলীগের কমপক্ষে ১৭ নেতা-কর্মী খুন হন। খুন এক সাংবাদিক ও নির্যাতনের শিকার হন আরো ২২ সংবাদকর্মী। তাদের নৃসংশতা থেকে ১০বছরের স্কুল ছাত্র রিয়াদও পার পায়নি। তাদের বেপারোয়া সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দমনে পুলিশ চরমভাবে ব্যর্থ হয়। আন্দোলনের নামে জামায়াত শিবির সরকারি গাছ কর্তন ও লুট, গাছের গুড়ি ফেলে ও রাস্তা কেটে অবরোধ সৃষ্টি, এমনকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাস্তার ওপর ঘর বানিয়েও তারা উল্লাস প্রকাশ করে। ভয়ে সংবাদকর্মীরা পর্যন্ত বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছিলেন না। তাদের কর্মকান্ড ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনী ও তাদের এদেশিয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল সামসদের গণহত্যা, লুটপাট, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের নির্মমতার কথা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এ অবস্থায় সরকার চলতি সপ্তাহে সন্ত্রাস দমনে যৌথবাহিনীকে মাঠে নামায়। যৌথবাহিনীর অভিযানের মধ্যেও জামায়াত-শিবির সর্বশেষ খুন করে কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিনকে (৬৫)। তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। বুধবার সকাল থেকে সাতক্ষীরা শহরসহ জেলার বিভিন্নস্থানে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি’র সদস্যরা টহল জোরদার করেছে। এদিকে মোসলেম উদ্দিন খুনের ঘটনায় ৪৯ জনকে আসামী করে কালিঞ্জ থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী আফরোজা খাতুন বুধবার সকালে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৪ আসামীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর জানান, জেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আটককৃতদের বিরুদ্ধে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

শেয়ার