রাজস্থানের নরখাদক

manus
বাংলামেইল ॥ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাচীনকালে একধরনের নরখাদক আদিবাসী গোষ্ঠীর অস্তিত্বের কথা হয়তো অনেকেরই জানা। এছাড়া তন্ত্র, মন্ত্র জাদু টোনার দেশে নরবলির ঘটনাও খুব একটা অপরিচিত নয় কারো। কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দীতেও ভারতে নরখাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে তা হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেননি।

মঙ্গলবার ভারতের রাজস্থান থেকে পুলিশ করন সিং নামে এক ভয়ঙ্কর নরখাদককে গ্রেপ্তার করেছে।গত দশদিনে সে তিনজনকে খুন করে কুচি কুচি করে কেটে তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খেয়ে হজম করে ফেলেছে করন৷ সিরিয়াল নরখাদক এই করণকে গত মঙ্গলবার পাকড়াও করেছে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের যৌথ পুলিশ বাহিনী৷

জানা যায়, মঙ্গলবার রাজস্থানের বরাহ জেলায় যখন চতুর্থ বারের মত শিকার ধরতে গিয়েছিল কারন, তখনই পুলিশ তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে৷ গুনার পুলিশ সুপার পি এস বিস্ত জানিয়েছেন, সময়মতো তারা ঘটনাস্থলে না পৌঁছালে হয়তো আরো অনেককে মেরে ফেলত সে৷

এসপি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে পরপর তিনজনকে খুন করেছে কারন৷ গত ৬ ডিসেম্বর গুনা জেলার রামপুরিয়া গ্রামে হানা দিয়ে হরিরাম বাবাকে (৪৮) কুপিয়ে খুন করেছিল সে৷ এরপর ১৩ ডিসেম্বর রামপুরিয়া থেকে আট কিলোমিটার দূরে সেমরা গ্রামের একটি খামারবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল একটি দেহ৷ দুটি ঘটনাতেই খুনির একই উদ্দেশ্য ছিল৷ তখন থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধে পুলিশের৷ এরপরেই ফের বরাহ গ্রামে একইরকম একটি খুনের ঘটনা ঘটে৷ শেষপর্যন্ত ধরা পড়ে যায় খুনি৷

খুনের পর লাশগুলো কচুকাটা করে রক্ত চুষেও খেয়েছে করন৷ শেষবার সে যাকে খুন করেছে তার দুটো থাই কেটে করন খেয়ে ফেলেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশকে৷

গ্রামবাসীরা পুলিশকে জানিয়েছে, আট বছর আগে নিজের মাকে খুন করে মায়ের রক্তও চুষে খেয়েছিল করন৷ আগে বন্যপ্রাণী শিকার করে তাদের মাংস খাওয়াই তার অভ্যেস ছিল৷ তাই সেমরা গ্রাম সংলগ্ন একটি গভীর জঙ্গলেই সে থাকত৷ গত কয়েক বছর ধরে জঙ্গলের ভিতরে একটি গাছের উপর মাচা বেধে থাকত করন৷

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মাচার উপর থেকে তারা ছয়টি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে৷ পাওয়া গিয়েছে রক্তমাখা একটি কম্বলও৷

শেয়ার