ছাত্রলীগ নেতা দাদা রিপন হত্যা মামলা ॥ আ’লীগ নেতা শাহারুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট॥ নিন্দা ও প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক রিপন হোসেন ওরফে দাদা রিপন হত্যা মামলায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারুল ইসলামকে আসামি করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পুলিশের এই ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপে বর্তমান এবং সাবেক ছাত্রনেতারাও সমালোচনা করেছেন। তারা রিপন হত্যা মামলার চার্জশিট বাতিল করে অবিলম্বে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেছেন আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার নির্দেশে এ ন্যক্কারজনক কাজ করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত খুনিরা পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০১০ সালের ১৫ মার্চ রাতে সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের রঘুরামপুরে খুন হন ছাত্রলীগ নেতা দাদা রিপন। তিনি এড়েন্দা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। ওই ঘটনায় তার পিতা ৮ জনকে আসামি করে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ ৩ বছর পর পুলিশ এ মামলায় শাহারুলকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা শাহারুলের সুপারিশে ছাত্রনেতা রিপন হোসেন ওরফে দাদা রিপন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক নির্বাচিত হন। এ ছাড়া রিপন তাদেরই অনুসারী হয়ে ছাত্র রাজনীতি করতো। ফলে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে শাহারুল ইসলাম কখনও জড়িত হতে পারেন না। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৩ মার্চ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন ছিল। দাদা রিপন ওই সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তিনি সদর উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলা কমিটির তালিকা তৈরি করেন। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারুল ইসলাম তার কাছে ওই তালিকা চান। তাকে তালিকা না দেয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হন। এরপর দাদা রিপন বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজুকে অবহিত করেন। এতে শাহারুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে যান। ১৩ মার্চ গোলযোগের কারণে সম্মেলন স্থগিত হয়। পরদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় দাদা রিপন তার বন্ধু সেলিমের সাথে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে যশোর শহরের আসছিলেন। পথিমধ্যে রঘুরামপুর আহছানিয়া মিশনের সামনে পৌঁছালে আসামিরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এটা ডাহা মিথ্যা। কারন দাদা রিপন অনেক আগেই কমিটির তালিকা মাহমুদ হাসান বিপুর কাছে দিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। ফলে ওই তালিকা নিয়ে তার সাথে কোন দ্বন্দ্ব হতে পারেনা। এ ছাড়া শাহারুলের কললিস্ট কিংবা দাদা রিপনের মোবাইলের কললিস্ট পরীক্ষা করলে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার নির্দেশে এ বানোয়াট ও ন্যক্কারজনক চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, দাদা রিপন হত্যা মামলায় শাহারুলকে জড়িয়ে চার্জশিট দেয়া ঠিক হয়নি। এতে বর্তমান রাজনীতিতে অনেকটা প্রভাব পড়বে। তারমত একজন নেতা রিপন হত্যার সাথে জড়িত হতে পারে না। বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিতে তার মত একজন বলিষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে পুলিশ বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, এমনকি প্রকৃত খুনিদের আড়াল করারও চেষ্টা করছে। তিনি বিতর্কিত ওই চার্জশিট বাতিল এবং পুনঃরায় তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

শেয়ার