লোকপাল বিল পাস, আন্নার চোখে আনন্দাশ্রু

Anna

সমাজের কথা ডেস্ক॥ লোকসভায় কণ্ঠভোটে পাস হল ঐতিহাসিক লোকপাল বিল। দীর্ঘ পাঁচ দশকের প্রচেষ্টার পর অবশেষে ভারতীয় পার্লামেন্ট দুর্নীতিবিরোধী এ বিল পাশে সমর্থ হলো। বিশ্লেষকরা একে ঐতিহাসিক ঘটনা বলে উল্লেখ করছেন। এবার এ আইনের অধীনে একটি দুর্নীতিবিরোধী ওয়াচডগ দল তৈরি হবে যার আওতাধীন থাকবে এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও। আর এরই মধ্য দিয়ে অবসান হলো বহুল আলোচিত আন্না হাজারের অনশন পর্বের।
উল্লেখ্য, লোকপাল বিল ২০১১তেই লোকসভা কর্তৃক পাশ হয়েছিলো, কিন্তু রাজ্যসভার অনুমোদন ছাড়া তা বাস্তবায়িত হবার উপায় ছিলো না। অবশেষে গত মঙ্গলবার রাজ্যসভাতেও বিলটি অনুমোদিত হলো। তবে সমাজবাদী পার্টি ও শিবসেনা পার্টি এ বিলের বিরোধিতা করেছে। রাহুল গান্ধী এবং বিরোধী দলের নেতা সুষমা স্বরাজ এ বিলের পক্ষে কথা বললে, সমাজবাদী ও শিবসেনা পার্টি রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করে।

রাহুল গান্ধী শীতকালীন অধিবেশনকে আরও দীর্ঘায়িত করার প্রস্তাব করেছেন। দুর্নীতিবিরোধী আরও কিছু আইন, যেগুলো লোকপালের সহায়ক হতে পারে, পাশ করানোর প্রস্তাবনা থাকবে তার। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে কেবল লোকপাল বিলই যথেষ্ট নয়। আমাদের একটি সম্পূর্ণ নীতিমালা দরকার।’

তিনি জানান, তার দল ইউনাইটেড প্রগ্রেস অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) ইতোমধ্যে এর একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। আরও আটটি সহযোগী বিলের প্রস্তার উত্থাপিত হতে যাচ্ছে।
বুধবার দ্বিস্তরবিশিষ্ট পার্লামেন্টের ওপরের স্তরের সুপারিশ ক্রমে স্পীকার মীরা কুমার লোকপাল বিলটি অনুমোদন করেন। এর আগে ২০১১ সালে নিচের স্তর হতে তা অনুমোদিত হয়ে ওপরের স্তরের জন্য অপেক্ষমান ছিলো।
এরই মাধ্যমে নয়দিন ব্যাপী অনশনে ইতি টানলেন আন্না হাজারে। প্রশাসন থেকে অনিন্দ্য সততার স্বীকৃতি স্বরূপ ৭৬ বছর বয়স্ক গান্ধীবাদি এ রাজনীতিককে দুর্নীতি প্রতিরোধী ‘ওয়াচডগ বডি’ গঠন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিল পাশ হবার জন্য আন্না হাজারাকেই কৃতিত্ব দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা সুষমা স্বরাজ। বিলটি এবার রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে।

শেয়ার