যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিজয় দিবস উদযাপন॥ রাজকার মুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার

bijoydibos
ইন্দ্রজিৎ রায়॥
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবির মধ্যে দিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যশোরে মহান বিজয় দিবস উদযপিত হয়েছে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল কুচকাওয়াজ, বিজয়স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সোমবার সকাল থেকেই রাজপথে নেমে আসে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। শহরের মণিহার এলাকার বিজয়স্তম্ভ, স্টেডিয়াম ও টাউন হল ময়দান ঘিরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।
বেলা ১১টায় শহরের টাউন হল রওশন আলী মঞ্চে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র, বীরপ্রতীক হাজারী লাল ও নুরুল ইসলাম, জাসদের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুযহারুল ইসলাম মন্টু ও রাজেক আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি, মোহাম্মদ আলী স্বপন, প্রবীণ রাজনীতিক কাজী আব্দুস শহীদ লাল, সিভিল সার্জন আতিকুর রহমান খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ৭১’র ঘাতক যুদ্ধপারাধীদের বিচারের রায় কার্যকরের মধ্যে দিয়ে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। একটি ফাঁসি কার্যকর হয়েছে বাকীদেরও অবিলম্বে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। পরাজিত শত্রুরা আবারও ৭১ সালের মত বর্বরতা চালাচ্ছে। তারা মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারছে। নিরীহ মানুষের ঘরবাড়িতে আগুন দিচ্ছে। এত বর্বরতার একটাই কারণ তারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চায়। এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকতে যুদ্ধাপরাধীরা কখনো বিজয়ী হতে পারবেনা। প্রয়োজনে আরো একবার যুদ্ধ করতে হবে। সবাইকে যুদ্ধাপরাধী ঘাতকদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা ও আর্থিক সহয়তা, কম্বল প্রদান করা হয়।
সকাল ৬টার পর থেকে বিজয়স্তম্ভে মানুষের ঢল নামে। মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মউৎসর্গকৃত শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যশোর-৩ আসনের এমপি খালেদুর রহমান টিটো, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর আব্দুস সাত্তার, জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র, যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আমিরুল আলম খান, সরকারি এমএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম ইবাদুল হক, জিলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বণিক। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা বিএনপি, ন্যাপ, জাসদ,জেলা ছাত্রলীগ, বাসদ, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সুরবিতান, উলাসী সৃজনী সংঘ, সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ, প্রথম আলো বন্ধুসভা, বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ, কৃষিবিদ ইন্সটিউিশন, জেলা আইনজীবি সমিতি, মাইকেল সংগীত একাডেমি, গণজাগরণ মঞ্চ, কপোতাক্ষ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, মাইকেল সংগীত একাডেমি, উদীচী, অগ্রণী ব্যাংক, তির্যক যশোর, উপশহর মহিলা কলেজ, কিংশুক, নার্সিং ইন্সটিটিউট, যশোর ২৫০ শর্য্যা জেনারেল হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, যশোর মেডিকেল কলেজ, স্বাচিপ, বিএমএ, যশোর কলেজ, যশোর হোমিওপ্যাথিক কলেজ, বাংলাদেশের কউিনিস্টলীগ, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে), সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, জাতীয় শ্রমিকলীগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিজয় স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এসময় বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে যুদ্ধপরাধীমুক্ত দেশ গড়ার শপথ বাক্যপাঠ করা হয়।
এদিকে সকাল ৯ টায় শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান ও পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে সরকারি এমএম কলেজের বিএনসিসি ও রোভার দল, ডা. আব্দুর রাজ্জাক কলেজ, ছাতিয়ানতলা চুড়ামনকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গার্লস গাইড বাংলাদেশ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সম্মিলনী ইন্সটিটিউশন, সরকারি শিশু পরিবার, যশোর জিলা স্কুল, মুসলিম একাডেমি, শিশু স্বর্গ প্রার্থমিক বিদ্যালয়, পুলেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাহমুদুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আঞ্জুমান আরা একাডেমি, যশোর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, আব্দুল গফুর একাডেমি, সেবাসংঘ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, নিউ টাউন বালিকা বিদ্যালয়, আব্দুস সামাদ মেমোরিয়াল একাডেমি, বাদশা ফয়সাল ইসলামী ইন্সটিটিউট, বর্ণমালা বিদ্যাপীঠ, ইসলামিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহন কারাতে একাডেমি, দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কারা আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুলকুড়ি আসর। ডিসপ্লে শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও বিকেলে টাউন হল মাঠে গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগ জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। ঢাকার সোহরাওয়াদী উদ্যোনের সাথে সংগতি রেখে জাতীয় সংগীত পরিবেশের আয়োজন করা হয়। এতে যশোরের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার