বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে উন্মাদনা

10
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভেন্যু পরিবর্তন হলেও বিশ্বকাপের ট্রফি দেখার উন্মাদনার কমতি নেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনে বুধবার সকাল ১১টা থেকে ট্রফি প্রদর্শন শুরু হয়েছে।

ট্রফি প্রদর্শনের উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও ট্রফিটি ঢাকায় নিয়ে আসার উদ্যোক্তা কোকাকোলার কর্মকর্তারা।

হাজার-হাজার দর্শক ট্রফি দেখতে আসেন। খুব কাছ থেকে ট্রফি দেখার সুযোগ পাওয়া ছাড়াও ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলে ইতিহাসের সাক্ষীও হয়ে গেছেন তারা।

লাইনে দাঁড়িয়ে পর্যায়ক্রমে ছবি তোলেন দর্শকরা। ছবি তুলতে সময় লাগে মাত্র ৩০ সেকেন্ড। ছবি তোলার দুই মিনিটের মধ্যে তা হাতেও পেয়ে যান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

তবে দর্শকদের ট্রফি দেখা এবং ছবি তোলা ছাড়া অন্য কিছু হয়নি। যদিও মঙ্গলবার বাফুফে কর্মকর্তারা বলেছিলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। কিন্তু তা করা হয়নি।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের বদলে হোটেল র‌্যাডিসনে ট্রফি প্রদর্শনের আয়োজন করতে বাধ্য হলেও কাজী সালাউদ্দিনের মুখে তৃপ্তির হাসি। বাফুফে সভাপতি বলেন, “বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে না পারা হয়তো আমাদের ব্যর্থতা। তবে র‌্যাডিসনে যেভাবে প্রদর্শন হচ্ছে, দর্শকদের যেমন উপস্থিতি তাতে আমরা সন্তুষ্ট।”

বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়রাও।

সাবেক তারকা ফুটবলার ইমতিয়াজ সুলতান জনি বলেন, “মাঠে খেলে হয়তো এ ট্রফি ধরতে পারিনি বা আসল ট্রফি দেখারও সৌভাগ্য হয়নি। এবার সামনে থেকে দেখতে পারছি বলে ভালো লাগছে। এটা অন্যরকম এক ভালো লাগা, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”

জাতীয় দলের ফুটবলার আতিকুর রহমান মিশু বলেন, “আমাদের প্রজন্মের খেলোয়াড়রা হয়তো বিশ্বকাপ খেলতে পারবে না। তাই ট্রফিটা ধরারও সুযোগ হবে না। তবে স্বপ্নের ট্রফিটা তো দেখতে পেরেছি। এটা আমার কাছে অন্যরকম ভালো লাগা।”

সদ্য ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সব খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাও ট্রফি দেখতে র‌্যাডিসনে যান।

সাবেক-বর্তমান ফুটবলাররা যেমন ট্রফি দেখে রোমাঞ্চিত, তেমনি সাধারণ দর্শকরাও উত্তেজিত। ধানমণ্ডি থাকা আসা অনন্যা চৌধুরী বলেন, “এই মুহূর্তটির কথা অনেকদিন মনে থাকবে। বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলে আমরাও এখন ইতিহাসের সাক্ষী। এটা ভেবে খুবই ভালো লাগছে।”

গুলশানের বাসিন্দা শাফায়ত জামিল বাবার সঙ্গে ট্রফি দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, “ভাবতেই পারিনি এত কাছ থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার সুযোগ পাবো। শুধু তো দেখিনি, ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলারও সুযোগ পেয়েছি। সব কিছুই আমার কাছে স্বপ্নের মতো লাগছে।”

মঙ্গলবার বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় আসে বিশ্বকাপ ট্রফি। বিমানবন্দর থেকে ট্রফিটি সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গভবনে। সেখানে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ট্রফিটি তুলে ধরেন।

বঙ্গভবন থেকে বিকেল ৪টায় নিয়ে যাওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের মতো ট্রফিটির প্রদর্শনী চলবে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ভুটানের উদ্দেশে ‘স্বপ্নের ট্রফি’ ঢাকা ছেড়ে যাবে।

শেয়ার