পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করুন

Gonojagoran
বাংলানিউজ ॥
ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করার জন্য সরকারকে ২০ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে গণজাগরণমঞ্চ।
বুধবার সন্ধ্যায় পাকিস্তান হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে গুলশানে অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ আলটিমেটাম ঘোষণা করেন গণজাগরণমঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
তিনি বলেন, আমরা ভিয়েনা কনভেনশন মেনেই কূটনৈতিক এলাকায় বিক্ষোভ করেছি। এখানে আমরা কোনও ধরনের সহিংসতা করি নি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের এ কর্মসূচিতে হামলা করে একজন বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধা, একজন বীরাঙ্গণাসহ ৮ জনকে আহত করেছে।আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা গুরুতর।আমরা এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা দুটি দাবিতে সেখানে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন। দাবি দুটির মধ্যে ছিল পাকিস্তানের সাথে সকল কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করা ও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অনৈতিক লাঠিচার্জের সাথে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি বিধান।
বিক্ষোভ সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাদের এ দুটি দাবি না মানা হলে তারা সেখান থেকে যাবেন না।
পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান জোনের উপ-কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির লাঠিচার্জের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা পুলিশের কাছ থেকে যে আশ্বাস পেয়েছি তাতে সঠিকভাবে আশ্বস্ত হওয়া যায় না। তাছাড়া আমাদের প্রধান দাবি মানার বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি নেই। তাই সরকারকে আগামী ২০ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে সরকার যদি পাকিস্তানের মঙ্গে সকল কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত না করে তাহলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় আবারও গুলশান-২ গোলচত্বরে অবস্থান নেবে গণজাগরণমঞ্চ।
এ ঘোষণা দেওয়ার পর উপস্থিত সকলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবীর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব পাসের প্রতিবাদে এর আগে গুলশান-২ এ পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করে গণজাগরণমঞ্চ। পরে সেখান থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনের সামনে অবস্থান নেন জাগরণমঞ্চের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত সোমবার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়। পাকিস্তান জামায়াতের সাংসদ শের আকবর খান এই প্রস্তাব উত্থাপন করলে তাতে সমর্থন জানায় সরকারি দল মুসলিম লিগ।
এছাড়া ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ, আওয়ামী মুসলিম লিগ, পাকিস্তান মুসলিম লিগ (কায়েদে আজম) ও জমিয়তে উলামা ইসলাম এই প্রস্তাবে সমর্থন জানায়।
তবে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে।

শেয়ার