দলীয় ক্যাডারদের হাতুড়ি পেটায় বিএনপি নেতা নিহত

catroligneta
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে দলীয় ক্যাডারদের হাতুড়ি পেটায় খুন হয়েছে বিএনপি নেতা মাসুদ রানা। সোমবার সকালে যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের শান্তির মোড়ে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত মাসুদ রানা শহরতলীর নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও মালিয়াট গ্রামের শফিয়ার রহমানের ছেলে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ আধাবেলা হরতাল ডেকেছে বিএনপি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, মাসুদ রানা পেশায় একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তিনি বিভিন্ন লোকের জমি লিজ নিয়ে নানা ধরনের ফলজ ও বনজ গাছের নার্সারি ব্যবসা করতেন। কিন্তু এর আড়ালে তিনি এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বেড়ে মফজেলের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করাই ছিল তার প্রধান কাজ। সম্প্রতি ১৮ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের মত বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও তার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। পিকেটিংয়ের নামে পথচারিদের মারপিট যানবাহন ভাংচুরই ছিল তার প্রধান কাজ। যে কারণে দিনে দিনে তার উপর দলীয়সহ সাধারণ মানুষ ক্ষীপ্ত হতে শুরু করে। বিরোধ বাধে এলাকার নবাবের সাথে। সোমবার সকালে মাসুদ একটি ভাড়া করা মোটরসাইকেলে যশোর শহরের দিকে আসছিল। তালবাড়িয়া গ্রামের শান্তির মোড়ে আব্দুল ওহাবের বাড়ির সামনে পৌঁছানো মাত্র নবাবের নেতৃত্বে ৭/৮ জন সন্ত্রাসী তাকে এলোপাতাড়ি মারপিটের এক পর্যায়ে হাতুড়ি পেটা শুরু করে। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে ওই সময়েই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়া হচ্ছিল। ফরিদপুর জেলার মধুখালি পৌঁছালে তিনি মারা যান। মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে নিহত মাসুদের লাশ ময়না তদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক বলে দাবি করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে খুন হলেও সাধারণ মানুষকে হয়রানী করার জন্য আজ বুধবার যশোরে সকাল সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে তারা।

শেয়ার