৩শ’ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ মওদুদ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

Moudud

বাংলানিউজ ॥
৩শ’ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার বেলা তিনটা ৫৫ মিনিটে গুলশান থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ১৮।
দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে প্রাপ্য তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য কাজ করেনি বলেও জানান তিনি।
এজাহার দাখিলের পর বাংলানিউজকে মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক হারুনুর রশীদ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে মওদুদ ও তার ভাই গুলশান এভিনিউর একটি বাড়ি জালিয়াতির মাধ্যম দখল বা আত্মসাৎ করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ‘১৯৬০ সালের ২৪ আগস্টে গুলশান আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এক বিঘা ১৩ কাঠা আয়তনের (হোল্ডিং নং ১৫৯) প্লটটি পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসানকে হস্তান্তর করে তৎকালীন ডিআইটি(বর্তমানে রাজউক)। পরবর্তীতে লিজ গ্রহীতার প্রত্যার্পণ সংক্রান্ত আবেদনের ভিত্তিতে তার স্ত্রী মিসেস ইনজে মারিয়া প্ল্যাজ (অস্ট্রেলিয়ান) এর নামে ওই প্লটটি ৬৫ সালে লিজ দলিল হিসাবে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়।
সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি তালিকা প্রণয়ন সংক্রান্ত ‘মিনিস্ট্রি অব ক্যাবিনেট অ্যাফেয়ার্স’ জারি পূর্বেই মিসেস ইনজে মারিয়া ফ্ল্যাজ ও যুদ্ধের পরপরই তার স্বামী মো. এহসানের দেশ ত্যাগের কারণে উক্ত প্লটটি পরিত্যক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, ‘মওদুদ আহমদ উক্ত সম্পত্তি আত্মসাতের অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেকে মিসেস ইনজে মারিয়া ফ্ল্যাজ প্রদত্ত আম মোক্তার নামার (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দাবিদার দেখানোর জন্য ৭৩ সালের ২ আগস্ট একটি আমমোক্তারনামা তৈরি করেন এবং তা তার সুবিধামতো সময়ে ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে নানা কৌশলে বাড়িটি দখলে নিয়ে নিজেকে ইনজে মারিয়া ফ্ল্যাজ এর ভাড়াটিয়া হিসেবে দেখিয়ে উক্ত বাড়িতে বসবাস করে আসছেন তিনি।’
এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, ‘এ নারীর (ইনজে মারিয়া) স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ না থাকলেও মওদুদ আহমদ তার পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে তা দেখান। পরবর্তীতে ৭৮ সালে তৎকালীন সরকারে যোগদান করে প্রথমে সরকারের মন্ত্রী এবং ৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় উপ-প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে নিজের ক্ষমতার অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে উক্ত বাড়িটিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় হোল্ডিং নং ১৫৯ নং এর প্লটটির মূল্য মাত্র ১০০ টাকা দেখিয়ে বরাদ্দ নেন তিনি। ৮০ সালে প্লটটি রেজিস্ট্রি করা হয়।

শেয়ার