মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে লাখো জনতার শপথ

Bejoymoncho

বাংলানিউজ ॥
সোমবার বিকেল ৪টা ১০মিনিট। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তৈরি রয়েছে বিজয়ের মঞ্চ। সারিবদ্ধভাবে একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী, দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা বিজয় মঞ্চে উপস্থিত হলেন। সামনে লাখ জনতা। গণজাগরণ মঞ্চের অগ্নিকন্যা লাকি আক্তার স্লোগান তুললেন ‘জয় বাংলা’। উপস্থিত সবাই সমস্বরে গর্জে উঠল ‘জয় বাংলা’। মুহূর্তেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, পুরো রাজধানী, এমনকি পুরো দেশ।
স্লোগানে স্লোগানে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৪টা ৩১মিনিট। ঘড়ির কাঁটা ৪টা ৩১ মিনিটের ঘরে পৌঁছাতেই দেশ-বিদেশে তিন লাখেরও বেশি বাঙালি একসঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গেয়ে ওঠেন। তৈরি হয় নতুন ইতিহাস, গড়ে বিশ্ব রেকর্ড।

জাতীয় সংগীত গাওয়ার পর লাখো জনতা ও বিজয় মঞ্চে উপস্থি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হাত উত্তোলন করেন মুক্তিযুদ্ধের উপ-সেনাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার (বীরউত্তম)।
একে খন্দকারকে অনুসরণ করে লাখো জনতা একসঙ্গে শুরু করে শপথ বাক্য পাঠ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের দেশ থেকে উৎখাতের শপথ নেয় জনতা।

শপথ বাক্যে জনতা উচ্চারণ করেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অগণিত শহীদ ও বীরের নামে, সকল নির্যাতিত ভাই ও লাঞ্চিত বোনের নামে আমরা শপথ নিচ্ছি, দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে আমরা শপথ নিচ্ছি, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গড়ে তুলবো। সেই লক্ষ্যে আমরা নিশ্চিত করবো, সকল ধর্ম, জাতিসত্ত্বা আর নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং ন্যায়পরায়ণ সমাজ। সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের পরিপন্থি সকল কাজ ও সব রকম পশ্চাদপন্থা প্রতিরোধ করবো।

‘আমরা আরও শপথ করি, ১৯৭১ সালে যারা সর্বশক্তি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো এবং আজও যারা সেই মনোভাব নিয়ে সহিংসতা ও সন্ত্রাস দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে আঘাত করে চলেছে, তাদের আমরা পর্যদুস্ত করবো। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার ও শাস্তি বাস্তবায়ন করতে আমরা সকল শক্তি নিয়োগ করবো। যারা একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে অপরাধীদের সমর্থন করবে, তাদেরকে আমরা বর্জন করবো।’
লাখো জনতাকে শপথবদ্ধ করার পর মুক্তিযুদ্ধের এই নায়ক গর্জন তোলেন ‘জয় বাংলা’। তার সঙ্গে আবার পুরো বাংলাদেশেই যেন গর্জন ওঠে ‘জয় বাংলা’।

শেয়ার