মানব পতাকা’য় বিশ্ব রেকর্ড

flag
বাংলানিউজ ॥
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘মানব পতাকা’ তৈরি করে গিনেজ বুকে রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ। ২৭ হাজার একশদ ১৭ জন স্বেচ্ছাসেবি নিয়ে এ মানব পতাকা তৈরি করা হয়।

সোমবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে শের-ই-বাংলা নগরে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এ বিশ্ব রেকর্ড গড়া হয়।

এ মানব পতাকা তৈরিতে সহযোগিতা করেছে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি।

সোমবার সকাল থেকে এ মানব পতাকার চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। খুবই ভোর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ও রবি’র সদস্যরা প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করে। অবশ্য সকাল পৌনে ৮টা পর্যন্ত ভেতরে কোনো সাধারণ মানুষকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পৌনে ৮টার দিকে সাধারণ দর্শকদের প্রবেশ কতে দেওয়া হলেও সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৯টা ১০ মিনিটের মধ্যে সবাইকে প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে বের করে দেওয় হয়।

ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। এ সময় তারা প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করার জন্য স্লোগান দেয়।

সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল থেকে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত বাসে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করতে থাকে। বেলা ১২টা পর্যন্ত চলে পতাকা তৈরির প্রস্তুতি। এরপর মানব পতাকার চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্য সবাইকে নির্ধারিত স্থানে পাঠানো হয়। সবার হাতে ছিল ভিন্ন প্লাকার্ড।

মানব পতাকা তৈরির জন্য প্যারেড গ্রাউন্ডে নির্দিষ্ট মাপের মধ্যে সাদা চুন দিয়ে ত্রিশ হাজার ছোট ছোট ঘর করে দাগ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক ঘরে একজন করে নির্দিষ্ট রংয়ের প্লাকার্ড নিয়ে দাঁড়ায়।

এরপর এ কার্যক্রমের সমন্বয়ক নির্দেশ দেওয়ার পর সবাই একসঙ্গে তাদের হাতে থাকা প্লাকার্ডটি মাথার ওপর তুলে ধরে। ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ড প্লাকার্ডটি মাথার ওপর ধরে রাখার পর প্লাকার্ড নামাতে বলা হয়। এর মধ্যে মাথার উপর থাকা হেলিকপ্টার থেকে ক্যামেরা দিয়ে ছবি নিয়ে বিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া হলো এখন থেকে সবচেয়ে বড় মানব পতাকার দেশ বাংলাদেশ।

তবে ছবি নেওয়ার পর সবাইকে প্লাকার্ড ছুড়তে নিষেধ করলেও কেউ সেটা শোনেনি। অনুষ্ঠান শেষে আনন্দ উচ্ছাসে সবাই তাদের হাতে থাকা প্লাকার্ডটি উপরে ছুড়ে দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে।

এরপর গিনেজ বুক থেকে আসা ১৮জনের অডিট দল ঘোষণা করে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় মানব পতাকার রেকর্ড বাংলাদেশের। ২৭ হাজার ১১৭ জন উপস্থিত থেকে এ পতাকার রূপ দিয়েছে।

এ অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত দর্শকদের সামনে গান পরিবেশন করেন, রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা, আইয়ুব বাচ্চু, মেহরীন ছাড়াও অনেক শিল্পী।

এ মানব পতাকা তৈরি করতে মোট ২৭ হাজার ১১৭ জন মানুষ ব্যবহার করা হয়। যার মধ্যে শুধু সশস্ত্র বাহিনীর ৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবী ছিল। যারা মূলত পতাকার লাল অংশটুকুর রূপ দেয়। আর বাকি সদস্য রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষদের দিয়ে পূরণ করা হয়। যারা মূলত পতাকার সবুজ অংশের রূপ দেয়।

এর মাধ্যমে রাশিয়াকে পেছনে ফেলা হলো। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে ২৬ হাজার ৯০৪ জনের মানব পতাকা তৈরি করেছিলেন রাশিয়ার ভ্লাদিভস্টকের বাসিন্দারা।

শেয়ার