বিশ্ব রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত

Bejoy
বাংলানিউজ ॥
এতো আবেগ! এতো সুর যেনো আগে দেখেনি বিশ্ববাসী। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ৪৩তম বিজয় দিবসে ৩ লাখের বেশি বাঙালি এক সময়ে একসঙ্গে গাইলেন তাদের প্রাণের জাতীয় সংগীত। আরও একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ।

সোমবার বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত মানুষেরা একসঙ্গে পরম আবেগে সমবেত কণ্ঠে উঠলেন- ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। সমবেত কণ্ঠে দেশপ্রেম জাগানিয়া এ জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন বীর বাঙালি জাতি।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ৪টা ৩১ মিনিটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে উদিত হয় এ দেশের স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য।

আর এ কারণে জাতীয় সংগীত গাইবার জন্য এই সময়টিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে দেশের বাইরে বসবাসরত সব বাংলাদেশি নাগরিক বিশ্বের সব বড় শহর থেকে মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

সারা বাংলার গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরে যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই একইসময় জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছেন।

শুধু দেশেই নয়, বিদেশে যে যেখানেই ছিলেন সেখান থেকেই জাতীয় সঙ্গীতে সুর মিলিয়েছেন।

এর আগে ২০১৩ সালের ৬ মে ভারতের লখনৌয়ে সাহারা ইন্ডিয়া পরিবার ১ লাখ ২১ হাজার ৬শ’ ৫৩ জনকে জড়ো করেন। তারা সমবেত কণ্ঠে সে দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। জাতীয় সংগীত গাওয়ার ক্ষেত্রে এতোদিন গিনেজ বুকে এটাই ছিলো প্রথম স্থানে। এর আগে ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতের কানপুরের গ্রিনপার্ক স্টেডিয়ামে লক্ষাধিক মানুষ একসঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিলেন। ভারতেরই সেই রেকর্ড ভেঙে সে দেশের জাতীয় সংগীত আবারও গিনেজ বুকে স্থান পায়।আর সোমবার বিকেলে সে তালিকার শীর্ষ স্থানে ভারতকে সরিয়ে স্থান পেলো বাংলাদেশ।

এর আগে সোমবারই দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মানব পতাকা গড়ার আরও একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘মানব পতাকা’ তৈরি করে গিনেজ বুকে এ রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। ২৭ হাজার একশদ ১৭ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে এ মানব পতাকা তৈরি করা হয়। এ মানব পতাকা তৈরিতে সহযোগিতা করেছে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি।

সোমবার সকালে ‘বিজয়ের সূর্যোদয়, বাংলাদেশ বিশ্বময়’ স্লোগান নিয়ে বিজয় ২০১৩ উদযাপন কমিটি, গণজাগরণ মঞ্চ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, বিজয় ৪:৩১ মঞ্চ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় দিবসের দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু করে। এ ঐতিহাসিক আয়োজনের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হয় ৩ লক্ষাধিক বাঙালির সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত।

সকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যরুপ পায় এ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের মূল পর্ব ছিলো জাতীয় সঙ্গীত। বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে লাখো বাঙালির সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পুরো রাজধানী শহরের চেহারাই যেনো বদলে দেয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূল আয়োজন চললেও যে যেখানে ছিলেন জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাই সুর তোলেন, একসঙ্গে কণ্ঠ মেলান। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার দেখেও যে যেখানে ছিলেন সেখানেই গেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কালজয়ী এ সঙ্গীত।

লোক সমাগমের বিষয়ে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কিছুক্ষণ আগে বলেন, ৩ লাখের বেশি মানুষ জাতীয় সঙ্গীত গাইবেন। জানবেন বিশ্বের ৬শ’ কোটি মানুষ।

আগে অনুষ্ঠানের স্থান জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও তৎসংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নির্ধারণ করা হলেও নিরাপত্তার কারণে পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঠিক করা হয়।

অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগে থেকেই আয়োজকরা গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

শেয়ার