বাংলাদেশীদের ভারতীয় ভিসায় কড়াকড়ি॥ বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তে— অতিরিক্ত বিজিবি বিএসএফ মোতায়েন

BSF
এমএ রহিম, বেনাপোল॥ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও ১৬ডিসেম্বর বিজয় দিবসকে সামনে রেখে সীমান্তে নাশকতা সহ অনুপ্রবেশরোধে বেনাপোল-পেট্টাপোল সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি বিএসএফ মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোন ন্শাকতা রোধে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। এদিকে বাংলাদেশীদেরকে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে কড়াকড়ি আরোপের অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ যশোর বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে,কর্নেল মতিউর রহমান জানান,সীমান্তের নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যৌথ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। শনিবার মহেশপুর সীমান্তে ওপারের ২৬ বিএসএফ ও ১ব্যাটালিয়ন বিএসএফের সাথে সীমান্তের বিভিন্ন রিউমার নিয়ে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। এদিকে বেনাপোলে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বেনাপোলে ২৬ জনের স্থলে ৪৩ জন ও আইসিপিতে ৪০জনের স্থলে ৬০জন নিয়োজিত করা হয়েছে। বিজিবি রয়েছে সতর্কাবস্থায়।
এবিষয়ে পোর্ট থানার ওসি কাইয়ুম আলী সরদার জানান, সীমান্তের বিষয়টি বিজিবি দেকভাল করছে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সজাগ রয়েছে।
এদিকে ভারতের পত্রিকা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর নিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অজুহাতে বাংলাদেশীদের সীমান্ত পাড়ি দেয়ার ঘটনা প্রকাশ হওয়ায় বাংলাদেশীদের ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে ভারতকে আরো কড়াকড়ি আরোপের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বিএসএফের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রচুর লোক বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ভারতে ঢুকছে। তবে ভিসা দেয়ায় কড়াকড়ি আরোপের পর আগতদের হার কিছুটা কমেছে বলেও দাবি করেন। একজন ঊচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, পেট্রাপোল, ঘোজাডাঙ্গার মতো স্পর্শকাতর সীমান্তে তারা নজরদারি জোরদার করেছে। এসব সীমান্তের পাশে যশোর ও খুলনা জেলায় বাংলাদেশের বিরোধী দল জামায়াত বিএনপির শক্ত ঘাটি রয়েছে। স্পর্শকাতর সীমান্তে আরো প্রহরী মোতায়েন করতে সরকারের উচ্চমহল থেকে নির্দেশনা আছে বলে জানান। গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সবগুলো যৌথ চেকপোস্ট দিয়ে চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যাপকহারে বাংলাদেশী হিন্দু ও মুসলিম নাগরিক ভারত আসছেন। ভারতের সীমান্তরক্ষী ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ ঢাকাকে এ ধরনের বিষয় আরো যাচাই-বাছাইয়ের অনুরোধ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশও ভিসা অনুমোদনে ভারতকে আরো কঠোর হতে বলেছে। পেট্রাপোল যৌথ চেকপোস্টের (উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হরিদাসপুর) তথ্য মতে, গত ৬ ডিসেম্বর ওই পথে অন্তত চার হাজার ১৮০ জন বাংলাদেশী ভারতে পাড়ি দিয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে চারশ’ বাংলাদেশী পশ্চিমবঙ্গে গেছেন। একইদিন দিনাজপুরের হিলি যৌথ সীমান্তপথেও অন্তত ২৩৪ জন বাংলাদেশী বৈধভাবে ভারতে গেছেন। সেদিন কুচবিহারের চেঙ্গরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ৪৯৮ জন ভারতে গেছেন, যদিও একই সীমান্ত দিয়ে এর আগে গড়ে ২৬ জন করে ভারতে যেত। ভারতের অভিবাসন বিভাগের বরাত দিয়ে পত্রিকাটির খবরে জানানো হয়,আগতদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যপরীক্ষার কারণ দেখিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন।

শেয়ার