সাতক্ষীরায় শুক্রবার মধ্যরাতেও তাণ্ডব চালায় জামায়াত শিবির॥ আ.লীগ নেতাকর্মীর বাড়ি ঢুকে লুটপাট ভাংচুর আগুন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরায় ১০ আ’লীগ নেতা কর্মীর বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাটের পর আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে জামায়াত শিবির। শুক্রবার রাত ১২ টার পর সশস্ত্র জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা জেলার বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তাদের এই নৃসংশতা দিনে দিনে ভয়াবহরূপ ধারণ করলেও আইন রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা পারছে না। এমনকি রাতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরও ঘটনাস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছে পুলিশ। এরফলে জনমনে ত্রাস সৃষ্টি হয়েছে। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে গোটা জেলার মানুষ।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান, একই ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি শওকাত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আজিজ ও ইউপি সদস্য আয়ূব আলীর বাড়ীতে জামায়াত শিবিরের চিহ্নিত ৩০/৪০ জনের সশস্ত্র দল হামলা চালায়। তারা বাড়ীতে ঢুকে ভাংচুর ও লুটপাট করে মালামাল নিয়ে যায়। পরে সবকয়টি বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অপরদিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেকী বাজারে একইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক মারুফ বিল্যাহ’র মালিকানাধীন মুদি দোকান ও পাশ্ববর্তী মিন্টুর চায়ের দোকান ভাংচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেয় জামায়াত শিবির ক্যাডাররা। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলতে সমর্থ হয়। আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ওই রাতে দেবহাটা উপজেলার গাজীরহাটে সুভাষ ঘোষের বাড়িতে ঢুকে ভাংচুর করে জামায়াত শিবির। এছাড়া সাতক্ষীরা সদরে পরানদাহ গ্রামের আড়–য়াখালি বাজারে খিতিশ বাঁছাড়ের মুদি দোকান, পদ্মশাখরা গ্রামের আহমেদ ও ইনামুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত শিবির। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে ভুক্তভোগী ও রাজনীতি সচেতনমহলের দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের মামলা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে জামায়াত শিবির সাতক্ষীরায় নৃসংশভাবে খুন গুম হত্যা লুটতরাজ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগসহ সব ধরণের অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আইন রক্ষাকারী বাহিনী কখনোই শক্ত ভুমিকা প্রদর্শন করতে পারেনি। যেকারণে ক্রমাগতভাবে জামায়াত শিবির বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখন তারা সরকার প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে গোটা জেলাকে অবরুদ্ধ করে রাখার সাহস দেখাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ চায় সাধারণ মানুষ।

শেয়ার