সব রায় কার্যকরের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

PM
বাংলানিউজ ॥ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটা রায় কার্যকর করা হয়েছে। বাকি রায়ও একের পর এক কার্যকর করা হবে।
আওয়ামী লীগ আয়োজিত শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শনিবার সন্ধ্যায় ফার্মগেটের খামার বাড়িতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। ক্ষমতা আমার ভোগের বস্তু নয়। আমি ক্ষমতার পরোয়া করি না । অর্থের লোভ নেই আমার। তাই যাকে দিয়েই ফোন করান না কেন কোনো লাভ নেই।
তিনি বলেন, আমরা জনগণের স্বার্থ দেখবো। মানুষের জন্য যা করার প্রয়োজন তাই করবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার লক্ষ্যই ছিল, এ বছরের ১৪ ডিসেম্বরের আগে কমপক্ষে একজন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর করা। জনগণের সহযোগিতার কারণেই এ রায় কার্যকর করতে পেরেছি।
আগামী নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা নির্বাচনে এসেছেন, আমরা তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে নিয়েছে। সমঝোতা করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি। যার ফলে অনেকগুলো আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেক প্রার্থী জিতে যাবেন। এটাকে অনেকে অস্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন। কিন্তু এটা আলোচনা করে নিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পরিকল্পনা করে নিয়েছি যে, কতোগুলো আসনে নির্বাচন হবে আর কতোগুলো আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবো।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে আমরা এটা করেছি। বিএনপি সর্বদলীয় সরকারে এলে আমরা তাদের সঙ্গেও এভাবে সমঝোতা করে নিতাম। কিন্তু তিনি ( খালেদা জিয়া) নির্বাচনে আসলেন না।
খালেদা জিয়াকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে তিনি অনেক কিছু করে ফেলবেন বলে মনে করছেন। কিন্তু এটা কখনো হবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের জন্য জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। মানুষ হত্যা করছেন। কিন্তু জনগণ বসে থাকবে না। মানুষ জানে, কিভাবে এসবের মোকাবেলা করতে হবে। ইয়াহিয়া, রাও ফরমান আলী, টিক্কা খানরা একাত্তরে টিকতে পারেননি। খালেদা জিয়াও জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে টিকে থাকতে পারবেন না।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন করবেন না, করবেন না। কিন্তু খুন খারাবি করবেন না।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় জামায়াত নির্বাচনে আসতে পারবে ন। আর জানি, জামায়াত ছাড়া নির্বাচনে খালেদা জিয়া আসবেন না। তার সব আন্দোলন, কর্মসূচি জামায়াতকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু তিনি তা করতে পারবেন না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী প্রমুখ।

শেয়ার