শান্তির নীড়ে সমাহিত ম্যান্ডেলা

mendela
সমাজের কথা ডেস্ক॥ দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে তার জন্মস্থান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের ‘শান্তির নীড়’ কুনু গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।
সপ্তাহব্যাপী নানা অনুষ্ঠানিকতায় ম্যান্ডেলাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর রাজধানী প্রিটোরিয়া থেকে শনিবার তার কফিন ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের ছোট্ট গ্রাম কুনুতে নেয়া হয়। সেখানেই রোববার শেষকৃত্যের মধ্য দিয়ে সমাহিত করা হল তাকে।

ঐতিহ্যগত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ম্যান্ডেলাকে চিরনিন্দ্রায় শায়িত করা হয়। তার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেন আত্মীয়-স্বজন ও বিদেশি অতিথিরাসহ প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ।

গত ৫ ডিসেম্বর ৯৫ বছর বয়সে মারা যান ম্যান্ডেলা। শৈশব কাটানো সেই শান্তির নীড়েই এখন তিনি চিরবিশ্রামে শায়িত।

নিজ গোত্র খোসা আবা টেম্বুর রীতি অনুযায়ী তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ম্যান্ডেলার স্ত্রী গ্রাসার সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা।

ম্যান্ডেলার কফিন সমাধিস্থলে নামানোর সময় দক্ষিণ আফ্রিকার সামরিক হেলিকপ্টার এবং জঙ্গি বিমান চক্কর দেয়। তার সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনিসহ শেষ বারের মতো বাজানো হয় বিউগল।

দেশের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের এই গ্রামের বাড়িতেই সবচেয়ে বেশি শান্তি পাওয়ার কথা সব সময় বলতেন ম্যান্ডেলা।

“দেখুন,এই পাহাড়গুলোকে তিনি ভালোবাসতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, এটাই তার জায়গা,” এক সাক্ষাৎকারে সিএনএনকে বলেন ম্যান্ডেলার মেয়ে মাকি ম্যান্ডেলা।

বর্ণবৈষম্য বিরোধী লড়াইয়ের অবিসংবাদিত এই নেতার মৃত্যুর পর গত সপ্তাহ ধরে তাকে শ্রদ্ধা জানায় দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ।

সর্বশেষ শনিবার কুনুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করার আগে প্রিটোরিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে তাকে শ্রদ্ধা জানায় ক্ষমতাসীন দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতারা। রাষ্ট্রীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন ঘিরে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন তারা।

‘আমাদের সংগ্রামের দৃষ্টান্ত। আমাদের জাতির জনক’ লেখা ম্যান্ডেলার হাস্যোজ্জ্বল ছবি সংবলিত একটি বিশাল পোস্টার দেখা যায় সেখানে।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা বলেন, “পিতা, তোমার পরযাত্রা শুভ হোক, তুমি তোমার দায়িত্ব পালন করেছ।”

সাদা-কালোর বৈষম্য ঘোচাতে ম্যান্ডেলার সংগ্রামী জীবন এবং তার ২৭ বছর কারাবাসের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ম্যান্ডেলার স্ত্রী গ্রাসা ম্যাচেল ও সাবেক স্ত্রী উইনি মাদিকেজেলাও উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার