রজত জয়ন্তীতে ‘বিজয়’

Bijoy2
সমাজের কথা ডেস্ক॥
কম্পিউটারে বাংলা লেখন পদ্ধতি বিজয়ের রজত জয়ন্তী হচ্ছে এ বছর ১৬ ডিসেম্বর। ২৫ বছর আগে যে বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিজয়ের যাত্রা শুরু সেই দিনের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন মোস্তাফা জব্বার।

১৬ মে ১৯৮৭ তারিখে বাংলা সাপ্তাহিক আনন্দপত্র প্রকাশ করে আমি কম্পিউটার দিয়ে বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করার যুগে প্রবেশ করি। তখন আমরা সৈয়দ মাইনুল হাসানের মাইনুল লিপি ব্যবহার করেছিলাম। মুনীর কিবোর্ডকে অনুসরণ করে ৪ স্তরের কিবোর্ড বানিয়েছিলাম, যার নাম ছিল জব্বার। কিন্তু সমস্যাটি ছিল ১৮৮টি বোতাম মুখস্থ রেখে বাংলা টাইপ করা। বিজয়-এর জন্মের পেছনে প্রযুক্তিগত প্রধান কারণ এটি। টাইপরাইটারে, সিসার কম্পোজে, ফটোটাইপসেটারে বাংলা লিখতে গিয়ে অনুভব করেছি যে রোমান কিবোর্ড দিয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা বর্ণমালা তৈরি করা সত্যি সত্যি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। হাজার বছরের বাংলা ভাষার ইতিহাসে এই সংকট মোকাবেলায় বাংলা অক্ষর কমানো, যুক্তাক্ষর বর্জন, অর্ধবর্ণ ব্যবহার এবং রোমান বা আরবি হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগসমূহের অন্যতম একটি কারণ ছিল বাংলা যুক্তবর্ণ। আমি স্বপ্ন দেখতাম– কবে, কেমন করে এই যুক্তবর্ণের শেকল থেকে মুক্তি পাব। বিজয় সৃষ্টি করে সেই শেকলটা আমি ভেঙেছি।

বাংলার ছাত্র বলে কিনা জানি না, এটি আমার মাথায় পুরো ৮৭-৮৮ সাল জুড়েই ঘোরপাক খাচ্ছিল। বাসায় বসে বসে স্ত্রী ও বাংলার ছাত্রী রোকসানা আমার সঙ্গে একমত হয় যে, হসন্ত ব্যবহার করে যুক্তাক্ষর তৈরির ভাবনাটা সঠিক। যেহেতু আমি নিজে ‘জব্বার’ কিবোর্ড বানিয়েছিলাম, সেহেতু যুক্তাক্ষর তৈরির গ্লিফগুলো সম্পর্কে আমার ধারণা খুব স্পষ্ট ছিল। কিন্তু আমি চাইছিলাম এমন একটি উপায়, যার সাহায্যে আমি ব্যবহারকারীকে যুক্তাক্ষরের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। সেই ভাবনা থেকেই ‘বিজয়’ কিবোর্ড-এর নকশা তৈরি করতে থাকি। পুরো বছর জুড়ে মোহাম্মদপুরের ৪২ সি কাজী নজরুল ইসলাম রোডের দোতালার বাসায় কত রাত যে আমি পায়চারী করে কাটিয়েছি তা মনে করা সম্ভব নয়। কিন্তু কোনোমতেই কম্পিউটারের সীমাবদ্ধ বোতামের মাঝে সকল বাংলা বর্ণের ঠাঁই করতে পারছিলাম না।

আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, এমন একটা কিছু আমি অবশ্যই খোঁজে পাব, আমার মাথায় এমন কিছু আসবে যার ফলে যুক্তাক্ষর নিয়ে কাউকে ভাবতে হবে না। তবে আমার সমস্যাও ছিল অনেক। আমি বাংলা ভাষা ও লিপি জানি, কম্পিউটারের ভাষা বা প্রোগ্রামিং জানি না। কেমন করে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম কাজ করে এবং তাতে কিবোর্ড ইন্টারফেস কেমন করে তৈরি করা যায়, তার কোনো ধারণাই আমার ছিল না। এছাড়া বাংলাদেশে মেকিন্টোস কম্পিউটারের জন্য প্রোগ্রামার পাওয়া যেত না।

ভারতের রাবা কন্টেলের অরুণ নাথ তখন আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমি অরুণকে জানালাম, আমি বাংলা কিবোর্ড ড্রাইভার বানাতে চাই। আমার হাতে ফন্ট আছে, কিন্তু ফন্ট দিয়ে বাংলা লিখতে কিবোর্ডের চার স্তর ব্যবহার করতে হয়। আমি চার স্তর চাই না, স্বাভাবিক দুই স্তর চাই।

অরুণ আমাকে দিল্লি যাওয়ার বুদ্ধি দিলেন। সেখানে পরিচয় করিয়ে দিলেন, কুতুব হোটেলের কম্পাউন্ডেরই ডি-২ ফ্লাটে রাবা কন্টেলে কর্মরত প্রোগ্রামার দেবেন্দ্র জোশির সঙ্গে। বেটেখাটো জোশি এবং তার সঙ্গে কর্মরত আরও কয়েকজন সহকর্মী তখন ম্যাকিন্টোসে ভারতীয় ভাষার কিবোর্ড ড্রাইভার এবং ফন্ট নিয়ে কাজ করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দেবনাগরী ভাষাকে কম্পিউটারে প্রয়োগ করা। পাঞ্জাবি, গুজরাটি, তামিল, তেলেগু এবং মালয়ালমও তাদের তালিকায় ছিল। তবে বাংলা তাদের কাজের তালিকায় ছিল না।

পশ্চিমবঙ্গে তখন ম্যাকের বাজার খুব ছোট। রাহুল কমার্স নামে তাদের যে ডিলার কলকাতায় ছিল, তারা তাদের বঙ্কিম ফন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু আমি সুনন্দা ফন্টের পাশাপাশি বাংলা কিবোর্ড ড্রাইভার নিয়েও ব্যস্ত ছিলাম।

ডিসেম্বর মাসের শুরুতে (১৯৮৮ সন) জোশির সঙ্গে কুতুব হোটেলের ডি-২ ফ্লাটে কাজ করা শুরু করে আমি অনুভব করলাম যে, আমার স্বপ্ন সফল করা যেতে পারে। জোশি বাংলা জানতেন না, কিন্তু হিন্দি খুব ভালো জানতেন। ফলে আমি যখন তাকে হসন্ত (জোশি বলত হলন্ত) ব্যবহার করে যুক্তাক্ষর তৈরির কথা বললাম, জোশি তখন আমাকে আমার ফন্ট ফাইলটি (সুনন্দা ফন্টটি থেকে আমি তন্বী সুনন্দা ফন্ট বানাই) সাজিয়ে নিতে পরামর্শ দেন। জোশি তখন আমাকে এটিও জানান যে, ফন্টে কোডের ব্যবহার বাড়ালেও কোনো অসুবিধা হবে না। আমি ১৮৮ অক্ষরের সংখ্যা বাড়িয়ে ২২০টি অক্ষর দিয়ে তন্বী সুনন্দা ফন্ট বানাই। আসকি কোডের যেসব জায়গায় কন্ট্রোল কি আছে সেগুলো ছাড়া ব্যবহার করা যায় এমন সকল কোডই আমি ব্যবহার করলাম। একটি যুক্তাক্ষরের তালিকাও আমি বানাই।

আমার সঙ্গে বিদ্যাসাগরের বর্ণ পরিচয় বইটি ছিল। বইটি দিল্লি যাওয়ার পথে কলকাতায় কিনেছিলাম। তালিকাটি সেই মোতাবেক করা হয়। প্রতিটি যুক্তাক্ষর এবং তার কী কম্বিনেশন ও গ্লিফ চার্ট তৈরি করা হয়। যতদূর মনে আছে, কুতুব হোটেলের ছয় তলায় ৫২২ নাম্বার রুমে বসে সাদা কাগজ আর পেন্সিল দিয়ে বারবার কাটাছেঁড়া করে দুটি তালিকা প্রস্তুত করি আমি। একই সঙ্গে প্রস্তুত করি বিজয় কিবোর্ড কোন নিয়মে কাজ করবে তার নিয়মাবলি। সে জন্য বিজয় কিবোর্ড প্রস্তুতের আগে আমাকে ভাবতে হয় অনেক কিছু।

বিজয় কিবোর্ড সেই সময়ে বিদ্যমান সকল কিবোর্ডের মৌলিক ধারণা থেকে স্বাতন্ত্র নিয়ে আলাদা হয়ে যায়। বিজয়-এর জন্মের সময় শহীদলিপি ও আবহ কিবোর্ড ছাড়া টাইপরাইটারের মুনীর কিবোর্ড প্রচলিত ছিল। শহীদলিপি ও আবহ কিবোর্ড আমার পছন্দ হয়নি। কম্পিউটারের অন্য কিবোর্ড শহীদলিপিও চারস্তরের এবং বিজ্ঞানসম্মত নয়। টাইপরাইটারে প্রচলিত মুনীর কিবোর্ডটি ঐ যন্ত্রের জন্য গ্রাফিক্যালি সকল বর্ণ তৈরি করতে পারলেও, মুনীর চৌধুরীর পুনঃপৌনিকতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও কম্পিউটারের জন্য উপযোগী নয়। এতে কেবল যে গ্লিফকে কিবোর্ডের বোতামে বসানো হয়েছে এবং বিন্দু ও মাত্রা সহযোগে বর্ণমালা তৈরি করার উপায় তৈরি করা হয়েছে তাই নয়, এর সংখ্যা, চিহ্ন ইত্যাদিও সঠিকভাবে স্থাপিত নয়। কম্পিউটারের জন্য আমার তৈরি করা জব্বার কিবোর্ডভিত্তিক এবং চার স্তরের বিধায় সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে বিজয় কিবোর্ড বিন্যস্ত করার সময় বিজ্ঞানসম্মত কিছু বিষয়কে মাথায় রাখা হয়েছে। এর মাঝে প্রধানতম বিষয় হল হসন্ত ব্যবহার করে যুক্তাক্ষর ও স্বরবর্ণ তৈরি, সম্ভাব্য ক্ষেত্রে জোড় ইত্যাদি।

কুতুব হোটেলের ৫২২ নাম্বার ঘরে বসেই যখন শেষ নকশাগুলো সম্পন্ন করা হয়, তখন গভীর রাত। দিল্লির শহরতলীর নীরব ঐ হোটেলে কান পাতলে আমার শ্বাসের আওয়াজও আমি শুনতে পেতাম। চারপাশে জনবসতি নেই বলে গাড়িঘোড়াও চলে না। কাজ শেষ করে ফেলায় প্রায় সারা রাত উত্তেজনায় ঘুম হয়নি। আমার যদি সেই সময়ে মোবাইল ফোন থাকত তবে আমি অবশ্যই জোশিকে গভীর রাতেই জাগাতাম। আমার টেনশন ছিল, আমার লেআউট, যুক্তাক্ষরের সর্বশেষ তালিকা এবং কিবোর্ডের নিয়মাবলি কাজ করবে তো? যদি না করে তবে আবার চেষ্টা করা যাবে। কিন্তু যদি করে, তবে সেই আনন্দ আমি কোথায় রাখব?

সম্ভবত শেষ রাতে শুয়ে পড়েছিলাম এবং ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সেরে ডি-২ তে গিয়ে জোশিকে প্রস্তুতই পেয়েছিলাম। জোশি আগের দিনই বাংলা কিবোর্ডের জন্য মূল প্রোগ্রামিং তৈরি করে রেখেছিল। আমার কাছ থেকে কিবোর্ডের লেআউট, বাংলা অক্ষরের কোড নং, লাতিন হরফের কোড নং এবং যুক্তাক্ষর তৈরির সিকুয়েন্স ও তার কোডসমূহ একের পর এক বসিয়ে গেলেন। ডি-২ অ্যাপার্টমেন্টে বসে ঘণ্টাতিনেকের মাঝেই আমার তালিকার কাজ শেষ হল। জোশি প্রোগ্রামটি কম্পাইল করলেন bkbd নামে। আমিই তাকে বলেছিলাম, এর নাম হবে বিজয় কিবোর্ড।

সামনেই ছিল ১৬ ডিসেম্বর। সুতরাং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ঐদিনে এই কিবোর্ডটি আমি প্রকাশ করব। স্বল্পভাষী জোশি মাত্র তিন কিলোবাইটের ওই প্রোগ্রামটি আমাকে দেখালেন। আমি আমার নামের প্রথমাংশ গোলাম-এর জি অক্ষরটিকে লিংক বা হসন্ত হিসেবে রাখলাম। ইচ্ছে করলে এর বদলে এইচ বোতামটিকেও লিঙ্ক হিসেবে রাখা যেত। বাংলা কিবোর্ড ও ইংরেজির মাঝে টোগল কি হিসেবে রাখলাম কন্ট্রোল-অপশন-বি। ‘বি’ দিয়ে বিজয় এবং বাংলা-দুটিও বোঝায়।

বিজয় কিবোর্ডটি যুক্ত করে বিজয় সফটওয়্যারের প্রোগ্রামিং শেষে bkbd ফাইলটি জোশি তার ম্যাকের সিস্টেম ফোল্ডারে কপি করে দিয়ে আমাকে বললেন, পরীক্ষা করে দেখো। আমি তন্বী সুনন্দা ফন্ট এবং এর ১৪ পয়েন্ট সাইজ বাছাই করে কন্ট্রোল+অপশন বি টাইপ করে প্রথমেই ইংরেজি এইচ বোতামে চাপ দিই। ম্যাকের (সম্ভবত ম্যাক টু) পর্দায় বাংলা ব হরফ দেখা যায়। এরপর আমি ইংরেজি জে, জি এবং জে টাইপ করি। ক-এর পর হসন্ত এবং এরপর ক্ক হতে দেখে আমি প্রায় চিৎকার করে বলে উঠি, জোশী বিজয় কাজ করছে। জোশির কোনো প্রতিক্রিয়া হল না। একটা নির্লিপ্ত ভাব নিয়ে জোশি বললেন, সবগুলো কম্বিনেশন চেক করো। আমার পেন্সিলে তৈরি করা কিবোর্ড লেআউট এবং যুক্তাক্ষরের তালিকা আমি একের পর এক পরীক্ষা করি। বেশ সময় নেয় তাতে। সম্ভবত দুপুরের খাবার সময় পার হয়ে যায়। কিন্তু আমার পেটে কোনো ক্ষুধা লেগেছিল বলে মনে নেই। পরীক্ষা শেষে বিস্ময়করভাবে আমি লক্ষ করেছিলাম যে, আমার তালিকা, কিবোর্ড লেআউট বা জোশির কোডিং-এর কোথাও সামান্য চুল পরিমাণ ত্রুটি ছিল না। সেদিন আমি যে এনকোডিং করেছিলাম এখনও তা (কিছুটা বদলে) ম্যাক ও.এস ৯.২ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। সেদিন যে কিবোর্ড তৈরি করেছিলাম তাই এখনও ব্যবহৃত হয়। তবে কম্পিউটার সোর্সের পারফেক্ট কিবোর্ডের লেআউটে ভুল করে ৎ নিচে ও ঃ উপরে ছাপা হয়। ফলে কিবোর্ড বদলাতে হয়, যা এখন বিজয় কিবোর্ডে বজায় রয়েছে। তবে পরে চেক করে দেখেছি দুয়েকটি যুক্তাক্ষর প্রথম তালিকায় ছিল না। ভ্ল, স্ক্ল এমন দুটি যুক্তাক্ষর আমি পরে যুক্ত করেছি।

তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, ওইদিন পৃথিবীতে আমার চেয়ে সুখী মানুষ আর একটিও ছিল না। সারা দুনিয়ার সকল আনন্দ একত্রিত করেও আমাকে ওইদিনের চেয়ে আনন্দিত করা সম্ভব হবে না। আমার মনে আছে, দিল্লির ওই এলাকাটি আমার ভালো লাগত না। রুক্ষ মরু অঞ্চলের মতো অজানা কাঁটাজাতীয় গাছে ভরা কুতুব হোটেলের চারপাশটাও আমার তেমন পছন্দ ছিল না। সবুজ দেশের মানুষের কাছে এমন মরু টাইপের অঞ্চল ভালো না লাগারই কথা। তবে হোটেলের রুম থেকে পুরোটাই সবুজ দেখা যেত। দালানকোঠা চোখেই পড়ত না। আমি কুতুব হোটেলের আশপাশে হাঁটতাম না। হোটেল কম্পাউন্ডটা খুব সুন্দর, বাড়ির মতো। বরং ওটা আমি পছন্দ করতাম। যতবারই আমি কুতুব হোটেলে থেকেছি (ওই সময়ে অনেক বার) ততবারই কেনাকাটা করতে হলে চলে যেতাম চাঁদনি চক বা এসি মার্কেট এলাকায়।

কিন্তু সেদিন বিকেলে বালুময় কুতুব মিনার এলাকাটি মনে হল ঘন সবুজ নরম মাটিতে মাখানো বাংলার মাটি। বালিতে পা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে মনে হয়েছে সবুজ দূর্বাঘাসের কার্পেটে ভর দিয়ে হাঁটছি, আর আমার জুতো ডেবে যাচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে অদূরে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকা কুতুব মিনারের চুড়োটার দিকে চোখে পড়তেই মনে হয়েছে, ওখানে উঠে দাঁড়ালে কি ঢাকা দেখা যাবে? ওখান থেকে ডাক দিলে কি রিনকি, তন্বী শুনবে? হেলেন, রাব্বানী বা কিবরিয়া কি পাবে আমার গলার আওয়াজ? যদি তখনই হামিদকে দেখিয়ে দিতে পারতাম, ওর ডিজাইন করা হরফকে আমি কত সুন্দর করে সাজিয়ে ফেলেছি? বন্ধু জালালের চিকচিক করা চোখটা খুশিতে কত সুন্দর হয়ে উঠবে তা কি ওই মিনারের উপর দাঁড়িয়ে দেখা যাবে?

আমার মনে পড়ছিল, খুব কাছাকাছিই হযরত নিজামউদ্দিনের মাজার। একবার ভেবেছিলাম, বাবার মাজারের কথা স্মরণ করতে ওখানে যাব? মা ও সানুর কথাও মনে পড়েছিল। কিন্তু সেদিনের সেই আনন্দ ভাগ করার কেউ ছিল না দিল্লিতে। তবে আমার মনে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, আমার স্বপ্নের এই বিজয় অবশ্যই বিশ্ব জয় করবে। ২৫ বছর পর পরিমাপ করতে পারছি না সেই স্বপ্ন কতটা সফল হল। তবে এটুকু বুঝি বিজয় আমাকে বিশ্বজুড়ে বসবাসকারী বাঙালিদের মাঝে পরিচিত করেছে। এটিই এই জীবনের বড় পাওনা।

– মোস্তাফা জব্বার

শেয়ার