যশোরে মাঠে থাকবে চারটি টিম॥ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেই ব্যবস্থা

EC
ইন্দ্রজিৎ রায়॥
প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের মধ্যে দিয়ে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীদের আচরণবিধি অনুসরণের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও আচরণবিধি নজর রাখতে মাঠে থাকছে ৪টি টিম। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেই এ টিম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জেলা রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচন মনিটরিং টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল মাঠে কাজ করবে। এছাড়াও প্রত্যেকটি সংসদীয় আসনের জন্য একজন যুগ্ম জেলা জজ ও একজন সিনিয়র সহকারী জজের সমন্বয়ে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ কমিটি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, শনিবার প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের মধ্যে দিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রচারণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুসরণ করতে হবে। সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কয়েকটি স্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নির্বাচন তদন্ত কমিটি: এ কমিটির সদস্যরা হলেন, প্রত্যেক সংসদীয় আসনের জন্য একজন যুগ্ম জেলা জজ ও একজন সিনিয়র সহকারী জজ।
ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম: এই কমিটির আহবায়ক জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ও সদস্য সচিব জেলা নির্বাচন অফিসার। এ টিমের সদস্যরা হলেন সিভিল সার্জন, যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, এনএসআই উপ-পরিচালক, যশোর আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ডান্ট, যশোর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, জমির আহমেদ টুন ও আজাদুল কবির আরজু।
নির্বাচন মনিটরিং টিম: জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারকে সভাপতি ও জেলা নির্বাচন অফিসারকে সদস্য সচিব করে নির্বাচন মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিমের সদস্যরা হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার, অভয়নগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সহাকারী রিটার্নিং অফিসার এবং সকল প্রার্থীর প্রতিনিধিগণ।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল: জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারকে আহবায়ক এবং জেলা নির্বাচন অফিসারকে সদস্য সচিব করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষকারী সেল গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন পুলিশ সুপার , ডিজিএফআই’র অধিনায়ক, ২৬ বিজিবি অধিনায়ক, র‌্যাব-৬ উপপরিচালক ও এনএসআই’র উপ-পরিচালক বা তাদের প্রতিনিধিগণ এবং সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ডান্ট, অভয়নগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীদের যা যা মানতে হবে: নির্বাচন পূর্ব সময়ে কোন প্রতিষ্ঠানে চাঁদা, অনুদান ইত্যাদি প্রদান কিংবা প্রদানের অঙ্গীকার করা যাবে না।
নির্বাচন পূর্ব সময়ে কোন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোন প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করা যাবে না। সরকারি ডাকবাংলো, রেস্ট হাউস, সার্কিট হাউস, বা কোন সরকারি কার্যালয়ে কোন দল বা প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে প্রচারের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
প্রচারনার ক্ষেত্রে সাবাই সমান সুযোগ পাবেন। প্রতিপক্ষের সভা, শোভাযাত্রা ও অন্যান্য প্রচারাভিযান পণ্ড বা উহাতে বাধা দেয়া যাবে না। সভার দিন, সময় স্থান সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টা আগে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোন সড়কে জনসভা কিংবা পথসভা করতে পারবে না। এমনকি প্রার্থীদের পক্ষে কোন ব্যক্তিও অনুরূপ জনসভা বা পথসভা করতে পারবে না।
সিটি কর্পোরেশন এবং পৌর এলাকায় অবস্থিত দালান, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের দণ্ডায়মান বস্তু, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বাস, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিকসা কিংবা অন্যকোন যানবাহনে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগাতে পারবে না। তবে টাঙ্গানো যাবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লিফলেট, পোস্টার ও হ্যান্ডবিল কোন প্রকার ক্ষতি সাধন, বিকৃত বা বিনষ্ট করা যাবে না।
নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত পোস্টার সাদা-কালো রঙের ও আয়তন অনধিক ৬০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৪৫ সেন্টিমিটার প্রস্থ এবং ব্যানারের ক্ষেত্রে ৩ মিটার লম্বা ও ১ মিটার প্রস্থ। পোস্টার বা ব্যানারে প্রার্থী তাহার প্রতীক ও নিজের ছবি ও নিবন্ধিত দলের প্রার্থী হলে বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়াও যানবাহন ব্যবহারের বিষয়ে আচরণবিধি অনুসরণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত আচরণবিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের নির্বাচর্নী প্রচারণায় অংশ নিতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে মে তিনটি টিম মাঠে কাজ করবে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। একই সাথে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন তদন্ত কমিটি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শেয়ার